মিরু হাসান বাপ্পী
বগুড়া প্রতিনিধিঃ
গত কয়েক দিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণে সারিয়াকান্দির নিকট যমুনা বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে । শুক্রবার দুপুরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৬৯ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । অপর দিকে বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৩ সে: মি: নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সারিয়াকান্দিতে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে । বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে পানি সিপেছ হওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে । পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদারের মাধ্যমে বাঁশের পাইলিং এবং বালির বস্তা ফেলে জরুরী বাঁধ রক্ষায় জরুরী প্রতিরক্ষামূলক কাজ করছে ।

শুক্রবার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, কামালপুরের রৌহাদহ গ্রোয়েন বাঁধের বেশির ভাগ অংশ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ মূল বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান দিয়ে পানি সিপেছ হওয়ায় বাঁশের পাইলিং এবং বালির বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষায় জরুরী প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা হচ্ছে ।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হালিম জানান, বন্যায় রোপা আমন ১৬৫ হেক্টর, বীজতলা ১২হেক্টর, সবজি ১৭হেক্টর, মাসকালাই ২২হেক্টর সহ ২১৬ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম কবির জানান, উপজেলার ২৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩টি উচ্চ বিদ্যালয় ১টি মাদ্রাসায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলার সারিয়াকান্দি সদর, হাটশেরপুর, কাজলা, চালুয়াবাড়ি, কর্ণিবাড়ী , বোহাইল, কুতুবপুর,চন্দনবাইশা ও কামালপুর সহ ৯টি ইউনিয়নের ৬৯টি গ্রামের ৫১হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে ।

উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বন্যা দূর্গত এলাকায় জি আরের ৮০ মে:টন চাল সহ অন্যান্যা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *