মিরু হাসান বাপ্পী
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণার পর উচ্চ আদালতে কমিটির নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া নিগার সুলতানা ডরোথী বুধবার এই আবেদন করেন। আদালতের বিচারক শাহাদত হোসেন আবেদন আমলে নিয়ে বিবাদীদের আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেছেন। এছাড়া মামলায় বিবাদী করা হয়েছে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক সাবিহা সাবরিন পিংকি, সাবেক সভাপতি খাদিজা খাতুন শেফালী, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম।

সুরাইয়া নিগার সুলতানা ডরোথী বলছেন, যিনি কখনো আওয়ামী লীগ করেননি তাকে দেওয়া হলো মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।

আর ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলছেন, তিনি আওয়ামী লীগ করেই আজকে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। ঘোষিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন হেফাজত আরা মিরা। মহিলা আওয়ামী লীগের ঘোষিত কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।

বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া নিগার সুলতানা ডরোথী জানান, সাবিহা সাবরিন পিংকি দলের কোনো স্তরেই সদস্য ছিলেন না। তিনি দির্ঘদিন ধরে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালে কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তুতকৃত কাউন্সিলর তালিকায় পিংকির নাম কেটে বসানো হয়েছে। আর সে অর্থের বিনিময়ে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এসবের প্রতিকার চেয়ে ৬ অক্টোবর তিনি উচ্চ আদালতে ঘোষিত কমিটির উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি আবেদন করেছেন।

অপরদিকে ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবিহা সাবরিন পিংকি জানান, তার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগ করে আসছেন। তার দাদা ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা। বাবা মা দুইজনই আওয়ামী লীগ করেছেন। বাবা ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলা যুবলীগের নেতা ও মা ছিলেন জেলা যুবলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক। ২০১৪ সালে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমতিতে তাকে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ৬০ তম সদস্য করা হয়। সেটি পত্রিকায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।

এছাড়া তিনি দাবি করেন, স্কুল জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। কেউ যদি উচ্চ আদালতে গিয়ে কোন অভিযোগ করেন তাহলে তার জবাব দিতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবেন বলে জানান।

Leave a Reply