ধুনট(বগুড়া) প্রতিনিধিঃ হৃদয়ে সৃষ্টি সুখের উল্লাস,চোখে সম্ভাবনার স্বপ্ন। করোনা মহামারিতে স্থবির জনজীবন। ভালো নেই নবীন- প্রবীন সৃষ্টিশীল মানুষ গুলো।দারিদ্রতার সাথে লড়ে যাও মানুষ গুলো হারাতে বসেছে জীবনের ছন্দ। হ্যাঁ, আজ একজন তরুণ লেখকের কথা বলছি যিনি অনায়াসে গল্প কবিতা লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেরই নজর কেড়েছেন।

‘শেখ সোহেল রানা’ বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের খাদুলী দিগর গ্রামে ১৯৯০ সালে ৩০শে ডিসেম্বর পৈতৃক নিবাসে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা-মরহুম শামছুল হক,মাতা-মোছাঃ সুফিয়া খাতুন। তিনি ৩ বোনের একমাত্র ছোট ভাই। দরিদ্র পরিবারে জন্মনেয়া শেখ সোহেল রানা নানামুখি প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে আপন প্রতিভার পরিচয় দিতে সক্ষম হন।

তিনি ২০০৬ সালে মুলতানি পারভীন শাহজাহান তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও ২০০৮ সালে জি এম সি ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। পরবর্তীতে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সরকারী আযিজুল হক কলেজ- বগুড়া থেকে ২০১২ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ২০১৩ সালে মাস্টার্সে ফাস্টক্লাস পেয়ে গ্রাজুয়েট সম্পূর্ণ করেন। তিনি ২০০৮ সালে এইচ এস সি’তে অধ্যয়নরত অবস্থায় মোছাঃ শাপলা খাতুন নামে এক রমনীর সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মোছাঃ সাদিয়া খাতুন ও মোঃ সাদিকুল ইসলাম নামে তাঁর দুটি সন্তান আছে।

বাল্যকাল থেকে তিনি একটু উদার মানুসিকতার ছিলেন। পড়া শুনার প্রতি তেমন ঝোঁক না থাকায় পিতার কড়া শাসনের ফলে স্কুল পালাতেন প্রায়ই। গ্রামের শিশু কিশোরদের সাথে মিশে বাউ-নদীতে সাঁতার কাটা,বক পাখির বাচ্চা চুরি,কাঁচের গুটি,দেশলাইকাঠির পরিত্যাক্ত বক্স দিয়ে সইসই খেলা আর নটকোট,গুলাপ জামের শাখায় শাখায় লাফালাফি হৈ হুল্লড় করেই কাটতো ছেলেবেলা।

তিনি পঞ্চম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় প্রথম “আষাঢ়ে”নামক কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন। এভাবেই মাঝেমাঝে স্কুল কলেজের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় স্ব-রচিত কবিতা লিখে সহপাঠীদের মাঝে পরিচিত হন। দীর্ঘ ৭ বছরে প্রায় ১২ শতাধিক কবিতা লিখেন ,তবে পারিবারিক ভাবে নিরুৎসাহিত করায় অভিমানে সকল পান্ডুলিপি পুড়ে ফেলেন তিনি। সেই থেকে থেমে যায় সাহিত্য চর্চা।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের দিকে হঠাৎ করেই ‘সামাজিক যোগাযোগ ‘ মাধ্যমে কবিতা লেখা লেখির মধ্যদিয়ে পুনঃআত্মপ্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি দেশের বিভিন্ন সাহিত্য অঙ্গন ও পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর নজরে আসেন। তিনি ২০১৭ সালে এম পি হাবিবুর রহমান বগুড়া- কর্তৃক ল্যাপটপ উপহার পান। উক্ত সালেই তিনি বাংলাদেশ সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় সহ বিভিন্ন অনলাইন সাহিত্য সংগঠন থেকে পুরস্কার প্রাপ্ত হন ।

দুর্ভাগ্যক্রমে ২০২০ সালে আবারো অনলাইন হ্যাকারের কবলে পড়ে প্রায় ২১ শতাধিক কবিতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। তখন জি এম সি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক জনাব মোঃ লুৎফর রহমান ও শাহজালাল স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মোঃ রুহুল আমীনের সার্বিক সহযোগীতায় আবারো লেখালেখির প্রতি মনোনিবেশ করেন। ২০২১ সালে লেখককে শাহজালাল স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে উদ্দীপনা পুরস্কার স্বরুপ ‘সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। অতঃপর অবশিষ্ট কবিতার পান্ডুলিপি থেকে বেশ কিছু কবিতা নিয়ে “অসমাপ্ত সংলাপ” নামক প্রথম বইটি প্রকাশ করতে যাচ্ছে শাহজালাল স্মৃতি ফাউন্ডেশন।

কর্ম জীবন হিসাবে তিনি ঢাকার একটি পোশাক শিল্পে সহকারী এডমিন হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ধুনট মডেল প্রেস ক্লাবের অধিনে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম দৈনিক সময়ের কলম ও দৈনিক প্রতিবাদ এ কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাহিত্য সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন। ভবিষ্যতে অনুকুল পরিবেশ পেলে সাহিত্য কর্ম চালিয়ে যাবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন এই তরুণ লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *