মিরু হাসান বাপ্পী
আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

হাট থেকে সদ্য আনা পটল ও করলা বস্তা থেকে ঝুড়িতে নামাচ্ছিলেন সবজি বিক্রেতা নাইমুল। ক্রেতারা পটলের দাম জিজ্ঞেস করতেই দৃঢ়স্বরে বলে উঠলেন পটল ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা কেজি। ক্রেতারা হৈহৈ করে উঠলেও দমলেন না নাইমুল। তার কথা, ‘আমাদের করার কিছু নেই। যেমন দামে কেনা, তেমন বেচা।

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) বগুড়ার সাতমাথা এলাকার নবাববাড়ীর সামনে ঘটনা এটি। এই সবজি বিক্রেতা বলেন, পটল পাইকারী ২১০০ টাকা মণ কিনেছি। আর করলা এনেছি ১৩০০ টাকা মণ। অতিরিক্ত গরমে সবজির গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এ জন্য বাজারে সবজি কম।

ক্রেতাদের ভাষ্য, অথচ এসব সবজির দাম গত কয়েকদিন আগেও ছিল প্রায় অর্ধেক। রমজানে কাঁচা বাজারের দাম বৃদ্ধিই যেন স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তারা।

সুত্রাপুরের বাসিন্দা আজমল বলেন, এক কেজি পটল কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দাম শুনে দমে গেছি। আধাকেজি পটল কিনলাম। আর বলার কিছু নেই আমাদের দেশে রোজা আসলেই দাম বাড়ে এটাই স্বাভাবিক।

কলোনী বাজারে কথা হয় লতিফপুর এলাকার বাসিন্দা মুক্তাদির সোহাগের সঙ্গে। তিনি বলেন, রমজানের আগের দিন মঙ্গলবার টেংরা মাছের দাম শুনেছিলাম প্রতি পোয়া ১২০ টাকা, নেইনি। গতকাল সেই টেংরা কেনার জন্য বাজারে এসে শুনি ২০০ টাকা পোয়া।

সোহাগ বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের কোন আগামাথা নেই। কখন বাড়ে, কেন বাড়ে কিছু বোঝা যায় না। এগুলো কেউ মনিটরিং করে কিনা তাও জানি না।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহখানেক আগে যে বেগুন বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকা কেজি। দ্বিগুন বেড়ে এখন তার দাম ৬০ টাকা। গড়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে শশা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ টাকায়। পটলের দাম ছিল ৩০, করলা ২০ টাকা।

তবে এবার বাজারে পেঁয়াজ, আলু, মরিচের দাম রয়েছে স্থিতিশীল। পেঁয়াজ বিক্রি কয়েক সপ্তাহ ধরে হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকা, আলু দেশি ২০ টাকা কেজি ও বিদেশি ১৫ টাকা কেজি। মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০ টাকা। এছাড়া মুরগির বাজারও স্থির রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৪০-১৫০ টাকা, লেয়ার ২২০ টাকা, পাকিস্তানি ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শহরের ফতেহ আলী, কলোনী বাজার ও সুলতানগঞ্জ হাট ঘুরে এসব দ্রব্যের দাম জানা যায়।

জেলা সিনিয়র কৃষি বিপনন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই সময়টায় সবজির সরবরাহ একটু কম থাকে। গত ১০-১৫ দিন আগেও মহাস্থান হাট থেকে গড়ে ২০টি ট্রাকে সবজি বাইরে সরবরাহ করা হত। কিন্তু আজকের তথ্যানুযায়ী ট্রাক গেছে প্রায় ৫টি। কয়েকদিন পর থেকে সবজির দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

রমজানে সবজির চাহিদা বাড়ে না বলে জানান এই অধিদপ্তরের জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম। এই কর্মকর্তার দাবি, অন্যান্য মাসগুলোয় যেমন সবজির চাহিদা থাকে, রমজানে তেমনই থাকে। বরং একটু কমে।

তারিকুল ইসলাম বলেন, আর বর্তমানে বগুড়ার বাজারে যেসব বেগুন দেখা যাচ্ছে তা যশোরসহ অন্যান্য জেলার। এ জন্য এগুলোর দামও একটু বেশি। তবে আর কিছুদিন পর বগুড়ার সবজি বাজারে উঠবে। তখন দামও কমে আসবে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *