মাহী তানভীর, চারঘাট ( রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভার বুকচিরে প্রবাহিত বড়াল নদীতে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। চারঘাট সদরের পৌর বাজার, মুংলি বাজার, রুস্তুমপুর গরুহাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে হোটেল রেষ্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ময়লা আবর্জনা অবাধে ফেলা হচ্ছে ওই নদীতে। দখল ও দূষণে বড়াল নদী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীটির জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) সকালে সরেজিমনে চারঘাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন হোটেল রেষ্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের পচা পরিত্যক্ত খাবার, দইয়ের খালিবাটি, ডিমের খোসা, পলিথিন, মুরগীর নাড়িভুঁড়ি, প্লাস্টিকের বোতলসহ নানা ধরণের দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আবর্জনা বড়াল নদীতে ফেলা হচ্ছে। যা আজ শনিবার (২৮ আগস্ট) ও বিদ্যামান।

এছাড়া গরু, ছাগল মারা গেলেও নদীতে ফেলে দেয়া হয়। মল-মূত্র ত্যাগের কারনে নদীটি ময়লা আবর্জনা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে নদীকে বাঁচাতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

উল্লেখ্য, বড়াল নদের উৎপত্তিস্থল চারঘাটে হইলেও এই নদ পদ্মা ও যমুনার সংযোগ রক্ষাকারী হিসেবে পরিচিত। শুষ্ক মৌসুমে নদটি শুকিয়ে যায়। তখন এর বুকে ফসলের আবাদ হলেও, বর্ষায় কানায় কানায় ভরে উঠেছে এই নদ। এতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে জেলেসহ তীরের বাসিন্দাদের মধ্যে।

বড়াল নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বললে তারা বলেন, নদী না বাঁচলে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। ময়লা আবর্জনা নদীর পানিতে মিশে নানা রোগ জীবানুও ছড়াচ্ছে। বড়াল বাঁচাতে এখনই দখল দূষণ রোধ করতে হবে।

তবে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়তি রাণী কৈরী’র সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হইলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply