সুজন কুমার,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের চামটা মশুরিপাড়ার মো: গোলাম রসুল এর ছেলে মো: নাজিম উদ্দিন (৩৫)। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে জোনাইল বাজারে সাইকেল-ভ্যান মেরামতের কাজ করতেন। সাইকেল-ভ্যান মেরামত করে যে রোজগার হত তা দিয়ে তার পরিবার ও সন্তানের পড়াশোনা কোনো রকম চলত।

পরিবারকে আরও ভালোভাবে পরিচালনা এবং একমাত্র সন্তান মোঃ মৃদুল প্রামানিক (১৪) এর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নাজিমের পিতা মোঃ গোলাম রসুল এবং স্ত্রী চায়না খাতুন বিভিন্ন এনজিও ও সুদে ঋণ করে নাজিম উদ্দিনকে ২০১৮ সালের ১৬ই জুলাই ওমান পাঠায়। ওমান থেকে প্রতিমাসে ৮-১০ হাজার করে টাকা পাঠাতো নাজিম উদ্দিন। যেখানে মাসে কিস্তি ছিলো প্রায় ৩২ হাজার টাকা। এভাবে ঋনের পরিমান বেড়েই চলেছিল চায়না খাতুনের।

২ বছর ওমান থাকার পর হঠাৎ করে নাজিম উদ্দিন তার স্ত্রী ও বাবাকে জানায় ওমানে তার উপর অনেক নির্যাতন করা হয়। তাই সে বাসায় চলে আসতে চায়। কিন্তু বেতন পায়নি এবং কোনো টাকা নাই বলে স্ত্রী চায়না খাতুনের নিকট ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। দিতে অপারগতা জানালে স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে নাজিম। স্বামীর কথা চিন্তা করে বাগডোবের এক মহিলার কাছ থেকে প্রতিমাসে ৬ হাজার টাকা সুদ শর্তে ৩০ হাজার টাকা ঋন নিয়ে নাজিমকে পাঠিয়ে দেয় চায়না খাতুন। গত ২৪-০৩-২০২১ ইং তারিখে তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও সে বাসায় ফেরে না। তার কর্মস্থলে খোঁজ করলে তারা জানায় নাজিম সুস্থভাবে দেশে পৌছে গেছে বলে তাদেরকে জানিয়েছে। তার সাথে কোনো রকম যোগাযোগ করা না গেলে তার স্ত্রী ৩১-০৩-২০২১ ইং তারিখে বিমানবন্দরে গিয়ে খোঁজ নেয় এবং নিশ্চিত হয় তার স্বামী দেশে ফিরেছে।

নাজিমের স্ত্রী চায়না খাতুন জানায়,আমরা বিমানবন্দরে গিয়ে নিশ্চিত হই সে দেশে ফিরেছে। কিন্তু বাসায় না আসায় এবং তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় আমরা বড়াইগ্রাম থানায় জিডি করতে গেলে তারা জিডি বলে যেহেতু এটা বিমানবন্দরের ঘটনা সেহেতু আপনারা সেখানে জিডি করুন। পরে কআমি ১-৪-২০২১ ইং তারিখে বিমানবন্দর পুলিশের নিকট সাধারণ ডায়েরি(জিডি) করি।

এমতাবস্থায় ১৪ বছরের এক সন্তান নিয়ে অসহায়ের মত বোনদের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনোরকম বেঁচে আছে চায়না খাতুন। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মরতে বসা চায়না খাতুন তার স্বামীর সন্ধান চেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

নাজিমের বাবা ও একমাত্র সন্তান নাজিম উদ্দিন কে পুনরায় তাদের সংসারে ফিরে পেতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *