গোলাম মোস্তফা ফুলপুর প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার ৯ নং বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রচারণায় সরগরম গ্রামীণ জনপদ।অলিখিত ভাবেই শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা।

সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের‌ দুই নেতা মাঠে নেমেছেন বেশ জোরে শোরে।একদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সাবেক সফল চেয়ারম্যান ও গণমানুষের নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম ওরফে মোতালেব দেওয়ান,এলাকাবাসীর বিশ্বাস তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন।তারপরও যদি কোন কারনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন,তাহলে ও তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহন করলে এলাকাবাসী সর্বোতভাবে সহযোগীতা অব্যাহত রাখবে।

অপরদিকে আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী গত নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান তালুকদার।হাইকমান্ডের মন ভিজিয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছেন এবার ও তার নৌকার মাঝি হতে দোড়ঝাপ লক্ষণীয়।আর অন্য দিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকেই জয় ভাবছে তার সমর্থকরা।

বিএনপির দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আজারুল মুজাহিদ সরকার।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায় সততা,স্বচ্ছতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারনে তিনি সুনজরে আছেন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের।

অপর প্রার্থী প্যানেল চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন তালুকদার।কে হচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী তা এখনো বুজার বাকি থাকলেও তৃনমুল সাধারণ ভোটার আর দলীয় কর্মি সমর্থকদের নানান মতামতে এগিয়ে আছেন তিনি।তার মুখপাত্র রাকিবুল তালুকদার বলেন তিনি যদি চেয়াম্যান হতে পারে আশা করি ইউনিয়নের তৃণমূলের নেতা কর্মিদের মূল্যায়ন করবে পাশাপাশি স্থানীয় সরকার উন্নয়ন সঠিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করবে।

প্রচার-প্রচারণায় থেমে নেই স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন,বালিয়ার পীর মরহুম আল্লামা গিয়াস উদ্দিন সাহেবের পুত্র নুরুল্লাহ খান পাঠান হাফিজ্জি।

ভদ্র শান্ত শিষ্ট ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সৃজনশীল এই তরুণ নেতা আদর্শিক রাজনীতির এক জীবন্ত ছবি তার কর্মী আবুল হাসেম জানান প্রতিহিংসা নয় ভালোবাসা দিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে চান আমাদের প্রার্থী।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবারের নির্বাচনের নতুন মুখ কাইচাপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সভাপতি সোহেল আকন্দ।স্থানীয়দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল আকন্দ বলেন আমি নির্বাচিত হলে নিপীড়িত,সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে নিজকে নিয়োজিত রেখে এলাকার সব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আরো বলেন যারা ভোটের জন্য পায়ে ধরতে পারে তারা স্বার্থের জন্য কানেও ধরতে পারে ইউনিয়ন বাসিকে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহবান জানিয়েছেন তিনি।তার কর্মী শাকিল খান জানান,আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি দোয়া প্রার্থনা করছি,সাধারণ মানুষ সোহেল আকন্দকে প্রার্থী হিসেবে চাইছে।

প্রার্থীরা কেউ দলীয় পরিচয়ে,কেউ বিগত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবি করে,কেউ মসজিদ-মন্দির,ক্লাব-সমিতির উন্নয়নে অর্থ সহায়তা দিয়ে, কেউ উন্নয়নের নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।ভোটাররাও সম্ভাব্য এই প্রার্থীদের এসব তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছেন।

তবে সাধারন মানুষ আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য মুখদের কাজকর্ম ও গতিবিধি লক্ষ্য করছেন।কৌতুহলী লোকজন জানতে চেষ্টা করছেন কোন প্রার্থী কেমন হবে।যে সব মুখ মাঠে নেমেছেন তারা শেষ পর্যন্ত আদৌ চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে লড়বেন কিনা তাও পর্যবেক্ষন করছেন সচেতন লোকজন।শেষ পর্যন্ত যে প্রার্থীকে মানুষ কাছে পাবে এবং সৎ, যোগ্য,আত্বীয়করণ কেলেংকারী মুক্ত থাকবেন তাকেই মানুষ ভোট দানের জন্য বিবেচনায় আনবেন বলে জানা গেছে।আর সাধারণ ভোটাররা বলছেন গত নির্বাচনের মতো এবার আর দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাতে চায় না বালিয়া ইউনিয়ন বাসী।

Leave a Reply