মোঃ আবু তৈয়ব. হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১১ এপ্রিল) চট্টগ্রামস্থ হাটহাজারী মাদরাসা মিলনায়তনে হেফাজতের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিটিং সকাল ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর ২টায় শেষ হয়।

পরে হেফজত আমির জুনায়েদ বাবুনগরী উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন-

★ সারাদেশে হেফাজত নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মুসলিমদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

★ গণ গ্রেফতার ও হয়রানী বন্ধ করে আসন্ন রমজানে মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে ইবাদতের সুযোগ দেয়া।

★ সারাদেশের ওলামায়েকেরাম, পির মাশায়েখদের নিয়ে হাটহাজারী মাদরাসায় ২৯ শে মে ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

★ ঘোষিত লকডাউনে মাদরাসা তথা হেফজখানা বন্ধ না করা।

★ সারাদেশে মসজিদসমূহে তারাবিহ্, এ’তেকা’ফ্, জুমা আদায়ে সংকুচিত না করা।

স্বাধীনতা দিবসের দিন গত ২৬শে মার্চ হেফাজতের কোনো কর্মসূচি ছিলোনা। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে তৌহিদী জনতা রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ করলে পুলিশ তাদের মারপিট এমনকি গুলি করে।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাটহাজারীতে মিছিল করে তৌহিদী জনতা ও ছাত্ররা। পুলিশ এতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৪জনকে হত্যা করে। এতে বিক্ষুদ্ধ জনতা সরকারি কিছু স্থাপনা ভাংচুর করে।

হেফাজত আমির বলেন- আমরা সরকারি-বেসরকারি যেকোনো ধরনের জ্বালাও-পোড়াও এবং ধ্বংসাত্বক কাজের বিরোধী। তারপরও যদি থানা বা সরকারি স্থাপনা ভাংচুরও হয়, তাদের সরাতে পুলিশ রাবার বুলেট বা গ্যাস ছোড়ে ছত্রভঙ্গ করতে পারতো” গুলি চালালো কেনো? নিশ্চয়ই হত্যার উদ্দেশ্যে” তা মেনে নেয়া যায় না।

তৌহিদী জনতা হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে দোয়া দিবস ও হরতালের ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। যা সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে’

দীর্ঘ এই বৈঠকে অংশ নেন- হেফাজত আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, সহ সভাপতি খোরশেদ আলম কাসেমি, সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাও. আব্দুল আওয়াল, মাও. তাজুল ইসলাম পির সাহেব ফিরোজ শাহ্, অর্থ সম্পাদক মুফতি মুনির হুসাইন কাসেমী, মাও. শোয়াইব জমিরী, মাও. ওমর মেখলী, মাও. আতাউল্লাহ্ আমিন, মাও. ফয়সাল আহমদ, ইলিয়াস হামিদী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নকালে তিনি মাওলানা মামুনুল হকের বিষয়টি প্রথমে এড়িয়ে গেলেও পরে বলেন- ‘এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়, কারো বিষয় নিয়ে আমরা আজ বসিনি”

তাঁকে বহিস্কার করা হবে কি-না’ এমন প্রশ্নে বাবুনগরী বলেন- না, কাউকেই সংগঠন থেকে বাদ দেয়া হবে না, তবে এবিষয়টি তার ব্যক্তিগত, তা উনিই দেখবেন”

এতে আরো অংশ নেন- যুগ্ন সম্পাদক নাছির উদ্দীন মুনির, ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আল হাবিব, যুগ্ন সম্পাদক সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাও. জসিম উদ্দিন।

সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদি, প্রচার সম্পাদক মাও. জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদরিস, সহ অর্থ সম্পাদক আহসান উল্লাহ্, জুনাইদ বিন ইয়াহইয়া প্রমূখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *