মোঃ রাশেদুল ইসলাম
মিঠাপুকুর (রংপুর)প্রতিনিধিঃ

১২ ঘন্টার মধ্যেই হত্যাকারী গ্রেফতারকৃত আসামি বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে।
গতকাল রোজ শনিবার (২৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নের বাউরাকোট গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মোসলেমার খাতুন (১৫)এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মোসলেমা ওই গ্রামের মোতালেব মিয়ার মেয়ে। সে খুব মেধাবী ছাত্রী ছিল এবং স্থানীয় এক হাই স্কুল থেকে এই বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। দুই ভাই বোনের মধ্যে সে ছোট।তার বাবার ভাষ্যমতে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে মোসলেমা বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও খুঁজে পায়নি।
গতকাল শনিবার বিকেলে মোসলেমার বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে হঠাৎ গন্ধ ভেসে আসে। গন্ধের সূত্র ধরে ক্ষেতের মাঝখানে গিয়ে স্থানীয়রা মোসলেমার অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায়। পরে মিঠাপুকুর থানা পুলিশসহ পিবিআই এবং সিআইডি ঘটনাস্থলে আসে এবং মরদেহ উদ্ধার করে। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং ফেসবুকে ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরিবারসহ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। সবাই হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করে।
নিহত ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নং-৩৮, তাং-২৫.০৪.২০২১ ইং, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দন্ড বিধি।
মিঠাপুকুর থানা পুলিশ কোন প্রকার কাল বিলম্ব না করে তদন্তে নেমে পড়ে। লাশ উদ্ধারের ১২ ঘন্টার মধ্যেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রাত ০২.৪৫ মিনিটে হত্যাকারী ১। মোঃ নাহিদ হাসান (২২), পিতা- জাহাঙ্গীর আলম, গ্রাম-দলসিংহপুর, থানা- মিঠাপুকুর, জেলা- রংপুর কে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদ জানায় যে ভিকটিম মোসলেমা তার চাচাতো বোন হয়। তাদের প্রেমের সম্পর্ক প্রায় ০১ বছরের। ভিকটিমের সাথে তার একাধিকবার দৈহিক মিলন হয়। সর্বশেষ তার ডিসেম্বর মাসে শারীরিক সম্পক হয়। এরপর নাহিদ দিনাজপুরে চাকুরীতে চলে যায়। ভিকটিম নাহিদকে ঘটনার ১৫ দিন আগে জানায় যে সে প্রেগন্যান্ট। কিন্তু নাহিদ তা অস্বীকার করে। এতে তাদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়।
ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ১৯.৩০ ঘটিকায় ভিকটিম নাহিদকে ফোন দিয়ে আসতে বলে। কিন্তু নাহিদ আসতে চায় না। ভিকটিম বার বার জিদ করলে সে দেখা করতে আসে। তারা ভুট্টা ক্ষেতে গিয়ে দেখা করে এবং ভিকটিম তার বাচ্চা রাখতে চায় এবং এর জন্য ব্যবস্থা করতে বলে কিন্তু নাহিদ তা মানতে নারাজ। সে যেকোন ভাবে বাচ্চা নষ্ট করতে বলে। এর এক পর্যায়ে নাহিদ রেগে গিয়ে তাকে ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে গলায় ওড়না পেচিয়ে মেরে ফেলে। এরপর সে বাসায় চলে আসে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে থাকে।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয় এবং বিজ্ঞ আদালত তার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *