মোঃ রাশেদুল ইসলাম
মিঠাপুকুর সংবাদদাতা:

রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে অজ্ঞান পার্টির ০৩ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার ; ০২ টি অটো, ০১ টি মোটর সাইকেল, ০৭ টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার।

গত ইং ১২.০৩.২০২১ তারিখ ড্রাইভার আঃ রাজ্জাক (৪০) পিতা- মৃত মফেজ উদ্দীন, সাং- পদ্মহার, থানা- পীরগন্জ, জেলা- রংপুর মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে গত ইং ০৮.০৩.২০২১ তারিখ বেলা ১১.০০ টার দিকে তার অটো নিয়ে চতরা বাজারে আসে এবং যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ৪ জন যাত্রী এসে দিনাজপুর যাবে বলে তার অটো ভাড়া নেয়। এরপর তারা নবাবগঞ্জ গিয়ে একটা হোটেল এ গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে। সেখান থেকে ভেন্ডাবাড়ী এসে তারা সবাই মিলে জুস খায় এবং কৌশলে ড্রাইভারকে জুসের মধ্যে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। ড্রাইভার অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মিঠাপুকুর থানাধীন রানীপুকুর এলাকায় ফেলে দিয়ে তার অটো নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ড্রাইভারকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করে।
উক্ত,অভিযোগের ভিত্তিতে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ কাল বিলম্ব না করে তদন্তে নেমে পড়ে। কিন্তু কোন ক্লু বের করতে পারছিলো না। তবে হাল ছাড়ে নাই। কাজে লেগে থাকা নীতি অবলম্বন করে এবং অবশেষে সাফল্য এসে ধরা দেয়।
গতকাল ২৮-৪-২০২১ইং সন্ধ্যায় ভাংনী এলাকা থেকে খবর আসে যে জুস খাওয়ায়ে অটো ছিনতায়ের চেষ্টাকালে দুই জন মহিলাকে ধরেছে জনতা।
মিঠাপুকুর থানা পুলিশ কাল বিলম্ব না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং দুই জনকে হেফাজতে নেয়। তখন দুইয়ে দুইয়ে চার হয়ে যায়। আমরা দেড় মাস যাবত যাদের খুজছিলাম এরা হচ্ছেন সেই গ্রুপেরই সদস্য। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের দলের মুল হোতা নুর আলম কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো
মো:নুর আলম ( তারেক সাগর রানা) (৩৮)পিতা: আব্দুল ওহাব , মাতা: মর্জিনা বেগম, গ্রাম- কিশামত জালাল, ৬ নং কাফ্রিখাল , থানা: মিঠাপুকুর, জেলা:রংপুর।
মোছাঃ সাথী আক্তার সুমাইয়া (১৮),পিতা: রশিদ বেপারী, গ্রাম:কিসমত শ্রীনগর, থানা: মির্জাগঞ্জ, জেলা: পটুয়াখালী।
মোছাঃ সাথী আক্তার সুমি (২০), পিতা মোঃ স্বপন জমারদার,মাতা:রাশিদা বেগম, গ্রাম- শাকবুনিয়া, থানা: বাকেরগঞ্জ জেলা:বরিশাল।
পরবর্তীতে, তাদের দেয়া তথ্যমতে তাদের হেফাজত হতে
০১ টি অটো,
০১ টি অটো রিকশা,
০১ টি মোটর সাইকেল,
০৭ টি চোরাই,মোবাইল,
৫০ হাজার টাকা,
চোরাই কাজে ব্যবহৃত ০৪টি রেঞ্জ,০১ টি পাইপ রেঞ্জ,
০২ টি স্টার রেঞ্জ
উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের এই গ্রুপের মাস্টার মাইন্ড হচ্ছে নুর আলম। তারা প্রথমে যাত্রী বেশে অটো, অটো রিকশা বা মোটর সাইকেল ভাড়া করে। তারপর ড্রাইভারের সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে জুসের সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। এরপর ড্রাইভার অচেতন হয়ে গেলে সুবিধামত জায়গায় থাকে ফেলে দিয়ে ড্রাইভার এর অটো, মোটর সাইকেল ও অটো রিকশা, মোবাইল, টাকাসহ মুল্যবান সামগ্রী নিয়ে চলে যায়। এরপর উক্ত জিনিসপত্র তারা মোঃ হাসানুজ্জামান (হানিফ) কালু (২৮) এর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর হানিফ অটোর রং পরিবর্তন করে বিক্রি করতো এবং তার গ্রুপের সদস্যদের তাদের পাওনা দিয়ে দিত। তারা প্রায় ৪ মাস ধরে এ পর্যন্ত ১৫/১৬ টি মতো কাজ করেছে।

তাদের বিরুদ্ধে মিঠাপুকুর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নং-৪৮ তাং-২৮.০৪.২০২১, ধারা-৩২৮/৩৭৯/৪১১ দন্ড বিধি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *