নাজিম উদ্দিন মির্জাপুর টাংগাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবৈধভাবে নদীর ও ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। যার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে মির্জাপুরের উত্তরাঞ্চলের যাতায়াতকারী মানুষের বহুকাঙ্খিত বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন সেতু, অপরদিকে বাড়িঘর ভাঙনের দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন নদী পারের বহু পরিবার। ফসলি জমির মাটি কাটায় শঙ্কায় খেটে খাওয়া কৃষক। রাতের আঁধারে অবাধে ভেকু মেশিন দিয়ে এ মাটি কেটে প্রভাবশালীরা ড্রাম ট্রাক যোগে বিভিন্নস্থানে বিক্রির মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, মাটি কাটার সাথে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের কিছু বলতে গেলেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়!

সরেজমিনে উপজেলার পৌরসভার ০৪ নং ওয়ার্ডের সওদাগড়পাড়া ও বংশাই নদী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর পশ্চিম ও পূর্বপাড়ের নদীর মাটি কাটার ফলে হুমখির মুখে পড়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন সেতু এবং একাধিক ঘরবাড়ি। এদিকে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের সরিষাদাইড়, ভাওড়া সরকারপাড়া, কামারপাড়া ও মারিশনপাড়া, শশধরপট্টি এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ফসলি জমিতে অবাধে মাটি কাটছে ওই এলাকার প্রভাবশালী মহল। যার কারণে শঙ্কায় দিন পার করছেন ওই এলাকার কৃষকরা।

ভুক্তভোগী পৌরসভার ০৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওমরতু বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ, নিদ আনি নিদ খাই। আমাগো বাড়িঘর ভাইঙ্গা গেতাছে, আমরা থাকুম কনে, মাটি কাইটা কাইটা নিয়া যায় আমাগো কথা শুনে নাতো। আমাগো একটা ব্যবস্থা কইরা দ্যান আমরা যানি সবাই থাকতে পারি।

আরিফ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এইখানে যেটুকু মাটি আছে সেটুকু যদি ভেঙে যায় তাহলে আমাদের নদীতে ভাসতে হবে। আমাদের কোনো ঠাই নাই। আমাদের কথাও মাটি ব্যবসায়ীরা শুনেনা। সরকারের কাছে আকুল আবেদন আমরা যেনো নিশ্চিন্তায় থাকতে পারি এই ব্যবস্থা করে দেন আমাদের।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। মাটি কাটার জন্য কাউকেই অনুমতি দেয়া হয়নি। জানতে চাইলে বলেন, ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যদি কেউ অবৈধভাবে মাটি কাটে এবং গাড়ি চালায় তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *