অনলাইন ডেস্ক:
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) ক্ষমতাশীন এনএলডি দলের নেত্রী অং সান সুচিসহ শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে আটকের পর সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করায় দেশটির প্রতি নিষেধাজ্ঞার হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। খবর বিবিসি’র।

মিয়ানমারের এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরাসরি আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন জো বাইডেন।

বিবিসি জানিয়েছে, অং সান সুচিকে আটক ও সামরিক বাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখল করার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। 

এক বিবৃতিতে জো বাইডেন বলেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়ায় বিগত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বার্মার (মিয়ানমার) ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল। কিন্তু এর বিপরীত কিছু হলে আমাদের কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা আইনের বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন এবং এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় হুমকি দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র এটি প্রতিহত করবে।’

সোমবার স্থানীয় সময় ভোররাতে সুচি ও তার ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য নেতাদের আটক করার পর জরুরি অবস্থা জারি করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তাদের।

মিয়ানমারের এসব ঘটনা নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেছেন, ‘সেনাবাহিনীর কখনোই জনগণের ইচ্ছা বা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ফলাফলকে বাতিল করার চেষ্টা বা মুছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয়।’

এদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী সুচি ও তার দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানানোর লক্ষে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আজ মঙ্গলবার বৈঠকে বসেছেন বলে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, অভ্যুত্থানটি মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আক্রমণ। এ ঘটনায় অন্যান্য দেশ কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, তার ওপর মার্কিন প্রশাসন নজর রাখবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন থেকে সেনাবাহিনীর শাসনে থাকা মিয়ানমার গত কয়েক দশক ধরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু সোমবারের ঘটনায় মিয়ানমারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া আবারও পিছিয়ে যাবে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *