শেখ মো.সোহেল রানা, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরজদিখানে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের শ্যালক মিলন হাওলাদার নামে ১জনকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগুন পুড়িয়ে হত্যা করে আগুন পুড়ে মারা গেছে বলে চালিয় দেবার চেষ্টা করা হয়েছে এমন অভিযোগ ওঠেছে। গত ২৩ মার্চ সোমবার দিবাগত রাতে সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চরপানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৪শ মার্চ মিলনের বোন রেনু বেগম ২০ জনকে আসামী করে সিরাজদিখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।ভুক্তভোগীর পারিবারের দেওয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত ২৩শ মার্চ ভোর রাতে মিলন হাওলাদারকে আগুন পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে তারই ভগ্নিপতি মো. বিল্লাল এবং ভাগিনা দিদার। কিন্তু মিলন হাওলাদার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাড়ি থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। প্রাণে বাঁচার জন্য দৌড়াতে দৌড়াতে শেষ পর্যন্ত পাশ্ববর্তী কেরানীগঞ্জের মির্জাপুর এলাকার সরকারি পশু ডাক্তার শ্রীকৃষ্ণের বাড়ির নিকটবর্তী একটি পুকুর ঝাপ দেয়। এ সময় তার পিছনে দৌড়ে আসা ভাগিনা দিদারও পুকুরে ঝাপ দেয়। পুকুরে নেমে মামা মিলনকে ধরত গেলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় ওই পুকুরের মালিক শ্রীকৃষ্ণ টের পেয়ে তাদেরকে চোর সন্দহ করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ভাগিনা দিদার জানায়,“তার মামা অসুস্থ, তাকে হাসপাতাল নিয়ে যাবে কিন্তু সে যেতে চাচ্ছেনা। তাই তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছি। পরে ওই বাড়ির মালিক শ্রীকৃষ্ণ এবং পাঠাও চালক মো, লিটন সহ স্থানীয় রাহিদাস মিলে একটি সিএনজি ভাড়া করে দেয় হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য। পরের দিন সকালে এলাকায় খবর আসে সকাল ৬ টায় মিলন আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা গেছে।

পুকুরের মালিক সরকারি পশু ডাক্তার শ্রীকৃষ্ণ জানান, আমরা যখন মিলন হাওলাদারকে পুকুর থেকে তুলে রাস্তায় অসুস্থ্য অবস্থায় নিয়ে আসি তখন সময় ভোর আনুমানিক ৬ টা বা সাড়ে ৬ টা হবে। রাস্তায় তেমন যানবাহন চলাচল নেই পাঠাও চালক মো. লিটন ঘটনাস্থলে আসলেই ভাগিনা দিদারের সঙ্গে কথা বলে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে দেই।
পাঠাও চালক মো. লিটন জানায়, আমরা মিলনকে যখন সিএনজিতে উঠিয় দেই তখন ভাগিনা দিদার ও মিলনের সমস্ত শরীর কাদামাখা ও ভেজা ছিল এবং মিলনের টি শার্টের বুকের কাছে আগুন পোড়ার ছোট একটি ছিদ্র ছিলো এছাড়া শরীর কোন প্রকার আগুন দগ্ধ হওয়ার লেশমাত্র চিহ্ন ছিল না।

এলাকাবাসীর তথ্য সুত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরপানিয়া গ্রামের মধ্যে বিল্লাল মাতবর এবং ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন এই-দুই গ্রুপের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে একাধিকবার টেঁটা যুদ্ধও হয়েছে ।

এ বিষয় ৩ নং ওয়ার্ডর ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেন জানান, হত্যা মামলাটি সম্পূর্নই সাজানো। আমাদের প্রতিপক্ষরা মিলনকে আগুন পুড়িয়ে মারার চেষ্ঠা করেও যখন মারতে পারেনি। তখন মিলনকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে রাস্তায় মেরে ফেলেছে। বিল্লাল এবং তার ছেলেকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সঠিক তথ্য বেরিয় আসবে ।

সিরাজদিখান থানার ওসি তদন্ত মো.কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই এর রহস্য উদঘাটন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *