মো. সোহেল রানা, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:মুন্সীগঞ্জ
লৌহজং চলছে মধুমাস।এই মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হরেক রকমের সুস্বাদু ফল। ফলের তালিকায় রয়েছে, যেমন-আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ছাড়াও অন্যতম আরেকটি ভিন্নধর্মী ফল তালের শাঁস। বাজারে ফলফলাদি’তে যখন রাসায়নিকে বিষে নীল, অন্যদিকে তালের শাঁসে রাসায়নিকে ঝুঁকি না থাকায় দাম কিছটা বেশী হলেও নারী-পুরুষসহ শিশুরাও তালের শাঁস আগ্রহ করে কিনে খাচ্ছেন। ভ্যাপসা গরমে শরীরের পানিশূণ্যতা দূর করতে বেশ ভূমিকা রাখে এই ফলটি।
ক্লান্ত পরিশ্রমী মানুষগুলো তালের শাঁসে প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছেন। প্রাণ সতেজ করতে তালের রসালো বিচির জুরি মেলা ভার। গ্রাম্য ভাষায় এটি তালের বিচি,তালের শাঁস নামে পরিচিত। গ্রাম ও শহরের বেশিরভাগ মানুষের কাছে তালের শাঁসের কদর বেশি। কারণ এটা মানুষের শরীরের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে। চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীর মতে তালের শাঁসে রয়েছে ভিটামিন এ,বি ও সি,জিংক পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ খনিজ উপাদান।
মৌসুমী ব্যবসায়ীরা তাল গাছ থেকে অপরিপক্ক তাল ফল পাইকারী কিনে এনে বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করে দেয়। পরে গোয়ালিমান্দ্রা হাট থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনে রাস্তার পাশে, হাটে বাজারে বিক্রি করে। আবার কেউ ভ্যানে করে বিক্রি করে।
একটি তাল থেকে দু’টি বা তিনটি শাঁস থাকে। অন্যদিকে কচি তালের শাঁসে জলীয় অংশ বেশি থাকায় নরম অবস্থায় তাল শাঁসের দাম অনেক বেশী। কিন্তু দিন যতই যেতে থাকে এই তাল শাঁস ততই শক্ত হতে থাকে। তখন শাঁসের দাম কমতে থাকে এবং এক সময় তাল পরিপক্ক হয়ে গেলে তখন আর এই শাঁস খাওয়া সম্ভব হয় না। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, ফুটপাতসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা গেছে আবহাওয়ার ঠান্ডা থাকলে তালের শাঁসের চাহিদা ব্যাপক। সুস্বাদু এই ফলটির বিক্রেতারা ধাঁরালো দা দিয়ে তাল কেটে তালের শাঁস বের করছে আর ক্রেতারাও অনেক আগ্রহ নিয়ে এই ফলের শাঁস কিনছেন।ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের থেকে এবার তালের শাঁসের দাম অনেকটা বেশি। এরপরও মৌসুমী ও সুস্বাদু ফল হওয়ায় এর প্রতি আগ্রহের কমতি নেই তাদের। তালের চাহিদা থাকায় বিচি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। বড় তাল প্রতি বিচি শাঁস ১০টাকা করে তিন বিচি ৩০টাকায়। আবার ছোট তালের বিচি ৮টাকা। ক্রেতারা মূল্যের দিকে না তাকিয়ে স্বাচ্ছন্দে কিনে নিচ্ছেন। উপজেলার নওপাড়া বাজারের সামনে এক তালের শাঁস বিক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আড়ৎ থেকে তাল কিনে ভ্যানে করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করি। গত ১৫দিন ধরে বিক্রি করছি। দৈনিক ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারি। ২হাজার টাকার তালের শাঁস বিক্রি করলে এতে লাভ হয় এক হাজার টাকা।
লৌহজং উপজেলার বড়মোকাম বাজারের তালের শাঁস বিক্রেতা সহিদুল ইসলাম দৈনিক ইনকিলাব’কে বলেন, গরম বেশী থাকলে বেশি বিক্রি হয় তাল কেটে অবসর পাওয়া যায় না। এখনও ভালোই। তবে বেচা-কেনা যাই হোক। তালের বিচি খেয়ে মানুষ পানির পিপাসা মিটায় এইটাই আমার কাছে অনেক ভাল লাগে।,তাল কাটতে আপনার কি পরিশ্রম হয় না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,যদিও তাল কাটতে পরিশ্রম হয় বেশি তবে এতে লাভও হয় বেশি। তাই পরিশ্রম হলেও তাল বিক্রি করি আনন্দে। যদি তালের শাঁস ১২ মাস থাকতো তবে বারো মাসই বিক্রি করতাম। সুলতান মাহমুদ নামে এক ক্রেতা বলেন,বড় তাল প্রতি বিচি শাঁস ১০ টাকা করে তিন বিচি তালের শাঁস কিনছি ৩০ টাকায়। জহিরুল ইসলাম নামের ক্রেতাকে প্রশ্নের জবাবে তাল না তালের শাঁস খেতে ভালো লাগে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার কাছে বেশি ভালো লাগে তালের শাঁস । কিন্তু তাল গাছগুলো এখন আগের মাতো দেখা যায় না। তাল গাছে বাবুই পাখির বাসা কতোই না ভালো লাগতো। এখনতো তাল গাছগুলো বিলুপ্তির পথে। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি মানুষ যদি একটা করে তাল গাছ লাগাতেন তাহলে অনেক ভালো হতো। কালের বিবর্তনে লৌহজংয়ে গ্রাম অঞ্চলে কমে গেছে তাল গাছের সংখ্যা। তবুও বর্তমানে অনেকেই তালের আঁটি রোপণ করে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *