শেখ মো.সোহেল রানা, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
শিক্ষিকা বোনের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় বটি দিয়ে হাত কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে শিক্ষক দুলাভাই। গত ৭ এপ্রিল লৌহজং উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের সুরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকের নাম মো. শফিকুল ইসলাম তালুকদার। সে লৌহজং উপজেলার সুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। আহত শ্যালকের নাম শফিকুল ইসলাম রাতুল (২৫)। সে মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর।

শিক্ষক শফিকুলের স্ত্রী শারমিন আক্তার একই উপজেলার দুয়াল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বিয়ের পর থেকে বাপেরবাড়ি থেকে টাকাপয়সা নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে শফিকুল। তার ভাইয়েরা শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে সুন্দর সুন্দর ঘরবাড়ি বানিয়েছে দাবি করে স্ত্রী শারমিনকেও বাপেরবাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা আনার কথা বলেন। শারমিন এতে আপত্তি জানালে তার উপর প্রায়ই শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালাতো শফিকুল। সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় শফিকুল স্ত্রী শারমিনের গলাটিপে ধরে এবং মাথা ও মুখমণ্ডলে বেদম আঘাত করে। পরদিন ৭ এপ্রিল সকালে শারমিন দুই সন্তানকে নিয়ে বাপেরবাড়ি চলে আসে। ঘটনার বিবরণ শুনে ওইদিনই শারমিনের ভাই শফিকুল, মা ও মুক্তিযোদ্ধা বাবা দুলাল শেখ সুরপাড়ায় শিক্ষক শফিকুলের বাড়িতে যায়। শ্যালক শফিকুল বোনজামাই শফিকুলকে বোনকে নির্যাতনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করে। এ সময় দুলাভাই শফিকুল উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা বটি দিয়ে শ্যালক শফিকুলের ঘাড়ে কোপ দিতে যায়। শ্যালক শফিকুল বাঁচার চেষ্টা করে সরে গেলে তার ডান হাতে বটির কোপ লাগে। পরে আহত শ্যালক শফিকুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঢাকার মিডফোর্ট হাসপাতাল হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। বটির কোপে শফিকুলের ডানহাতের কব্জির তিন রগ কেটে গেছে। এ বিষয়ে লৌহজং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে শারমিনের পরিবার। এসআই তাহের তদন্তের নামে দুপক্ষকে বসে মীমাংসার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান শারমিনের বাবা মুক্তিযোদ্ধা দুলাল শেখ।

২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর উপজেলার বেজগাঁও গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ও ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল শেখের মেয়ে শারমিনের সাথে একই উপজেলার সুরপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে শফিকুলের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছরের মাথায় শফিকুল-শারমিন দম্পত্তির একটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরপর দুটি বাচ্চা হওয়ায় লালনপালনের জন্য শিক্ষক শারমিন বাপেরবাড়িতে বেশি অবস্থান করতো।

অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শ্যালককে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এটা আমার পারিবারিক বিষয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল হক বলেন, আমরা অফিসিয়ালি একটি অভিযোগ পেয়েছি। মামলা-মোকদ্দমা হলে তার প্রেক্ষিতে তদন্ত করে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *