মোঃ সাইফুল ইসলাম, বাগমারা রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের কবর জুড়ে বানিজ্যিক ভবন নির্মাণের কারণে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছেন প্রধান শিক্ষকসহ পরিচালনা পরিষদ। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাথে আলোচনা করে দ্রƒতই কবরস্থান উন্মুক্ত করে মসজিদ নির্মাণ করা হবে বলে আস্বস্ত করেছেন প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম।
অনুন্ধানে জানা গেছে, মোহনপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাকেন্দ্র কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠা হয় এ বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের আয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে অনেক জমি সম্পদ। আর বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্নে যোগদান করা শিক্ষকদের অধিকাংশই মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিদ্যালয়ের মাওলানা শিক্ষক আবদুল মান্নান। তাঁর জন্মস্থান ছিল কুমিল্লা জেলায়। তিনি এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন ১৯৬৪ সালেই। চাকরীর সুবাদে তিনি স্বপরিবারে বাস করতেন কেশরহাটেই। দীর্ঘ সময় এ অঞ্চলে থাকার কারণে বিদ্যালয়ের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়। তখন কবরস্থানটি ছিল ঝোপঝাড়ে ভরা। মাওলানা আবদুল মান্নান সুদীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের মাওলানা শিক্ষক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের মাঝে অশংখ্য ছাত্র, ভক্ত অনুরাগী রেখে ১৯৯৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। বন্যা কবলিত সময় হওয়ার ফলে কুমিল্লায় না নিয়ে বিদ্যালয়ের তৎকালিন অফিস কক্ষের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়। পরবর্তীর্তে সংরক্ষনের জন্য বেঁধে দেয়া হয় তার কবরটি। যা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান।
বিদ্যালয়টি বৃহৎ হাট-বাজার সংলগ্ন স্থানে গড়ে ওঠার জন্য সময়ের আবর্তে ওইস্থানগুলো এখন যেন চরম দামী হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমিতে নির্মিত হয়েছে দুটি আধুনিক মানের বহুতল ব্যবসায়িক ভবন। যদিও স্থানীয়দের দাবীর জন্য কবরস্থানটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি সে কবরস্থানের উপর নতুন ভবন স্থাপনের কারণে চরম সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিদ্যালয়ের ১৯৯৫ ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আকবর আলী বলেন আমাদের মাওলানা স্যার দীঘদিন এখানে চাকরী করেছেন। তার কবরটি সংরক্ষেনের আমাদের সকলের কর্তব্য।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন মাওলানা আবদুল মান্নান আমারও শিক্ষক ছিলেন। তার কবর হেফাজত করা আমার কর্তব্য। স্থানীয় ুভাকাঙ্খিদের সহযোগিতায় একাধিক আধুনিক মানের বহুতল ভবন নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। কারিগরী ত্রƒটির কারণে কবরের উপর যে পরিমাণ জায়গা ফাকা রাখার কথা হয়নি। এজন্য কমিটির সাথে আলোচনা করা হয়েছে। দ্রƒত কবরস্থান উন্মুক্ত করে সেখানে মসজিদ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য সকলের হযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আ হ ম শাহেদুজ্জামান মুক্তা বলেন কবরস্থান ফাকা রাখার বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে বার বার বলেছি তবুও তিনি এধরণের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজন্য দ্রƒত কবরস্থান উন্মুক্ত করে মসজিদ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *