মোঃ রায়হান উদ্দিন, শার্শা (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোর বেনাপোল স্থল বন্দর ব্যবহারকারী ৯টি সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেনাপোল ট্রাক টার্মিনালের চাঁদাবাজি রোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্য্যলয়ে আজ এক জরুরী আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

সোমবার (২৬ই এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ ঘটিকায় শার্শা উপজেলা কর্মকর্তার সভাকক্ষে বেনাপোল পৌরট্রাক টার্মিনালকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম চাঁদাবাজি সহ জোর পূর্বক প্রতি বার প্রবেশের সময় ১০০ টাকা তোলার বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজার সভাপতিত্বে ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জুর নেতৃত্বে বেনাপোল নবনির্মিত পৌরট্রাক টোলের সঠিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে লক্ষ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নাভারন সার্কেল পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান, বিশেষ অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খান।

এসময় বন্দর ব্যবহারকারী (১)বেনাপোল ট্রাক মালিক সমিতি(২) ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি (৩) বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন (৪)বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ (৬) বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১ (৭) বেনাপোল প্রাইভেট স্টান্ড একতা সমিতি (৮) বেনাপোল শার্শা নাভারণ মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন (৯) ঝিকরগাছা নাভারণ বেনাপোল ট্রাক মালিক সমিতি ৯টি সংগঠনের নেতারা বেনাপোল পৌর ট্রাক টার্মিনালের জোর পূর্বক ট্রাক চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের নানা দিক তুলে ধরেন।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আজিম উদ্দীন গাজী জানান, গত ১৪ই এপ্রিল বেনাপোল পৌরট্রাক টার্মিনাল উদ্বোধন করার পর থেকে শুরু হয় এক অনৈতিক কর্মযজ্ঞ যেটা বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী ৯টি সংগঠন মেনে নিতে পারিনি সেই মোতাবেক গত ২৫ তারিখ বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির কার্যলয়ে আলোচনায় বসে একটি সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। তার পরিপেক্ষিতে ২৬ তারিখ থেকে কর্মবিরতী ঘোষনা দেয় ৯টি সংগঠন কিন্তু শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আহবানে ফল প্রসূ আলোচনায় আমরা কর্মবিরতী বর্জন করছি।

আলোচনা সভা শেষে ঝিকরগাছা নাভারণ বেনাপোল ট্রাক মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মুছা মাহমুদ বলেন যে, বেনাপোল পৌরট্রাক টার্মিনালের আলোচনা সভায় সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন কোন অবস্থায় মহাসড়কে চাঁদাবাজি করা যাবে না। এছাড়া তিনি সরকারি সকল কর্মমর্তাদের এ বিষয়টি নজরদারী করতে আহবান জানিয়েছেন।

আলোচনা সভায় সহকারী পুলিশ সুপার নাভারন সার্কেল জুয়েল ইমরান বলেন, পৌরট্রাক টার্মিনালের নামে জোর পূর্বক কোন চাঁদা আদায় করা যাবে না। আজকের পর থেকে চাঁদাবাজির কোন সম্পৃক্ততা পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যেহেতু ট্রাক টার্মিনাল একটি সরকারি প্রতিষ্টান, যে ট্রাক প্রয়োজনে ট্রার্মিনাল ব্যবহার করবে শুধুমাত্র সে সকল ট্রাক গুলোয় চাঁদা প্রদান করবেন। এছাড়াও তিনি জানান যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে কোন ট্রাক রাখা যাবে না যদি দাঁড়ানো ট্রাক তিনি পান তাহলে ২০০০ টাকা করে জরিমানা করবেন এতে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

এ আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান, শার্শা উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন,ছাত্র লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, বেনাপোল পৌরসভার সচিব রফিকুল ইসলাম,বেনাপোল পৌরসভার পেনেল মেয়র শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মন্টু,পৌর কর্মকর্তা রনি, পৌর টার্মিনালের ইজারাদার মোঃ আলী খান, রহমত আলী,আব্দুল মালেক, আজিবর রহমান সহ বন্দর ব্যবহারকারী ৯টি সংগঠনের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা বলেন, উন্নায়নের নামে কোন চাঁদা উঠানো যাবে না বেনাপোল পৌরট্রাক টার্মিনালের গাড়ি রাখার বিষয়ে সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পোষ্টার মাইকিং সহ বন্দর ব্যবহারকারী ট্রাক সংগঠন গুলোর সহযোগিতা গ্রহন করার আহবান করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *