শফিকুল ইসলামঃ
মোহনপুর(রাজশাহী)প্রতিনিধি:

রাজশাহীর মোহনপুরে স্ত্রীর পরকীয়া সইতে না পেরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন প্রতাপ কুমার সাহা (৩৮) নামে এক মোটর সাইকেল মেকানিক । বুধবার রাতে উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের দোরুজপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মরচুয়ারীতে প্রেরণ করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, মোহনপুর উপজেলার দোরুজপাড়া গ্রামের মৃত মন্দ্রিনাথ সাহার ছেলে প্রতাপ কুমার সাহার সাথে রংপুর জেলার পীরগঞ্জের দীলিপ কুমার সাহার মেয়ে তাপসি রানী ৬ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে প্রান্ত নামে ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পাশের নওনগর গ্রামের হাফিজ নামের এক কলেজ ছাত্র নিহত প্রতাপ কুমার সাহার ছেলে প্রান্ত কুমার সাহাকে বাড়ি গিয়ে প্রাইভেট পড়াতেন। একপর্যায়ে প্রাইভেট শিক্ষকের সাথে নিহত প্রতাপ কুমার সাহার স্ত্রী পরকীয়ার জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্ত্রীর উপর স্বামী প্রতাপের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এনিয়ে স্ত্রীর সাথে স্বামী প্রতাপের প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। ২৯ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত ১১ টায় সময় স্বামী-স্ত্রী ও পাঁচ বছরের ছেলে প্রান্ত কুমার সাহাকে নিয়ে প্রতিদিনের মত ঘুমিয়ে পড়েন। রাত অনুমাস ১টার পরে যেকোন সময় স্ত্রীর উপর রাগ করে তিনি গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ বিষয়ে মোহনপুর কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. তৌহিদুল ইসলাম জানান, রাত ১ টায় পর যেকোন সময় পাশের রুমে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে প্রতাপ কুমার সাহা। নিহতের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। বৃহস্পতিবার ভোরে স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন প্রতাপ কুমার সাহার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) অলক বিশ্বাস মোহনপুর থানার ওসিকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে স্ত্রীর পরকীয়ায় স্বামীর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহত প্রতাপ কুমার সাহার স্ত্রী তাপসি রানী সাহা পরকীয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। প্রাইভেট শিক্ষক হাফিজুরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মোহনপুর থানা কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতাপ কুমারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মরচুয়ারীতে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের ছোট ভাই সুজল কুমার সাহা বাদি হয়ে থানায় ইউডি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply