মাহী তানভীর, চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
ছয় ঋতুর বাংলাদেশ। প্রতিটি ঋতুর রয়েছে আলাদা রূপ ও বৈচিত্র। আকাশে শরতের শুভ্র মেঘের ছুটে চলার আনন্দ মিছিল আর পদ্মায় কাশফুলের অনাবিল শুভ্রতা। যেন স্বর্গের স্নিগ্ধতায় মুখরিত রাজশাহীর পদ্মা। কখনো আবার বাতাসে অবাধ্য খুকির মতো দোল খেলে যাচ্ছে কাশফুলগুলো। এটি শিল্পীর ক্যানভাসের কোন চিত্র নয়। রাজশাহীর পদ্মার চরে এমন দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছে অসংখ্য দর্শনার্থী। পদ্মা নদীতে অনেক জায়গায় পানি শুকিয়ে চর জেগেছে আর সেখানে মৃদু বাতাসে কাশফুলগুলো নৃত্য করে যাচ্ছে। প্রায় সারাদিন পদ্মার পাড়ে ভিড় লেগে থাকে। তবে বিকেলে দর্শনার্থীদের সংখ্যা আরো বেশি হয়। অনেকে মুঠোফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলছে কাশফুলের মাঝে। কাশবনের এই পরিবেশ যে কারো মনকে উদ্বেলিত করবে। শরতের প্রকৃতির মোহনীয় সৌন্দর্যের স্পর্শ পেতে শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়, মুরব্বিরা ছুটে আসছেন। অনেক সময় বাড়তি জনসংখ্যার নিরাপত্তার জন্য দেখা যাচ্ছে পুলিশের গাড়ি। স্থানীয় চটপটি দোকানী পিন্টু বলেন, তিন মাসের মতো স্থায়ী থাকে কাশফুল। তিনি আরো জানান বাড়তি দর্শনার্থীর জন্য তার ব্যাবসা এখন অনেক ভালো। সরকারি কর্মকর্তা সালেহ উদ্দিন বলেন, চাকুরীর সুবাদে প্রায় ৭ বছর ধরে রাজশাহীতে আছেন প্রতি শরতের কাশবন দেখতে ছুটে আসেন পদ্মার চরে। শরতের শুভ্র মেঘের মাঝে যখন উঁকি দেয় নীল আকাশ নীলিমার নীল দূরত্বের স্পর্শ পাওয়ার আকাঙ্খায় কাশফুলগুলো আকাশ পানে চেয়ে থাকে। সাদা যদি হয় শান্তির প্রতীক তবে কাশফুল প্রশান্তির প্রতীক! গোধূলির রক্তিম আভা কাশবেন ছড়িয়ে পড়লে প্রকৃতি হয়ে ওঠে মায়াপুরী কোন স্বপ্নরাজ্য। শরতের শুভ্র স্পর্শে প্রকৃতি হয়ে ওঠে লাজুক রমনী। শরৎকাল মানব হৃদয়কে করে দেয় শুভ্র ও শাশ্বত। ষোড়শী তরুণীর মতো চঞ্চলা কাশবন খোলসের প্রেমকে জাগিয়ে তুলে মনকে হারিয়ে দেবে প্রকৃতির মাঝে।

Leave a Reply