রামগড় প্রতিনিধিঃ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়ে পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে মালিকানা বাগানের মতই কাটাঁ হচ্ছে নির্বিকারে সরকারি গাছ পালা । কৃষি অধিদপ্তরের কোন লিখিত আদেশ ছাড়াই এক এক করে ডালপালা কাঁটা ও গবেষণার নাম করে সরকারি এই মুল‍্যবান সম্পদ কেটেঁ বিক্রি করা হচ্ছে। গত শুক্রবার ১৫ জানুয়ারি পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণার গেষ্ট হাউজের পিছনে রান্না ঘরের সাথে থাকা একটি কাঁঠাল গাছ কেঁটে ফেলা হয়েছে যার ছবি তোলাতে ও গাছের বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে ফোন দিলে তিনি দৈনিক মানবাধিকার ক্রাইম বার্তার রামগড় প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম ও দৈনিক আমাদের অর্থনৈতি পত্রিকার সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন কে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা চালিয়েছেন। অফিস এলাকা ও আনসার ক‍্যাম্প সহ বাগানের বিভিন্ন স্পটে গাছ কাঁটা হয়েছে বন বিভাগ সুত্রে জানা গেছে সরকারি দপ্তরের গাছ কাঁটতে হলে দপ্তরের হেড অফিসে লিখিত ভাবে জানাতে হবে।তবে কৃষি গবেষণা কর্তৃপক্ষ সরকারি কোন লিখিত আদেশ ছাড়াই গাছ কাঁটায় লিপ্ত রয়েছেন । এর পূর্বেও আম কাঁঠাল বয়রা চাপালিষ গাছ কেঁটে লারকি হিসেবে শ্রমিকের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে যা বিভিন্ন গনমাধ‍্যমেও নিউজ করা হয়েছিলো। আর ১৬ জানুয়ারির পুলিশের হয়রানির দৃশ্য স্থানীয় দোকানের মালিক ও স্থানীয় লোকজন দেখেছেন।

গত ১৬ জানুয়ারি ২০২১তারিখে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে অফিস ভবনের ও গেষ্ট হাউজ এর সাথেই একটি বড় কাঁঠাল গাছ কেঁটে লারকি করে রাখা হয়েছে।এবং কেউ যেনো বুঝতে না পারে ঐখানে কাঁঠাল গাছ যে ছিলো তাই গাছের মুল পর্যন্ত তোলে ফেলা হয়।সরকারি ভাবে গাছ কাঁটার কোন লিখিত অনুমতির আছে কিনা তা জানতে চাইলে অফিস সহকারী ও দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এবিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানানো হয়।ভূতের গল্পের মতই কাহিনি করে সরকারি সম্পদ লুটপাট করে বিক্রির মহোৎসব চলছে পাহাড়াঞ্চল রামগড় কৃষি গবেষণায়।

এবিষয়ে স্টোর কিপার আবদুল লতিফ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন গাছ কাঁটার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।তবে দেখেছি গাছ কাঁটছে।আমি ফিল্ডের দায়িত্বে নেই। যারা ফিল্ড পর্যায় কাজ করে তারাই এবিষয়ে জানবে।

গত ২৪ ডিসেম্বরের নিউজ এ সাংবাদিকদের অফিস সহকারী সুনীল দাস জানিয়েছেন গাছ কাঁটার লিখিত কোন অনুমতি তার কাছে নেই। সরকারি অনুমতি ছাড়া কি ভাবে সরকারি এ সম্পদ কাঁটা হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি এড়িয়ে গেছেন।তবে সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক জানান আমরা রিসার্চ এর জন্য গাছ পালা কাঁটতে পারি তিনি আরো জানান অনুমতি আনতে অনেক সময় লাগে,আর এত সময় কে অপেক্ষা করবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের লিখিত আদেশ ছাড়াই গাছ কি ভাবে কাঁটা হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি নিরব ছিলেন।এদিকে পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.এস এম ফয়সাল (অশ্রু )গত নিউজের বক্তব্যে মুঠোফোনে জানিয়েছেন আমি অফিসের কাজে চট্টগ্রামে আছি তবে গবেষণার ক্ষেত্রে বড় গাছের শুধুমাত্র ডালপালা কাঁটার জন্য বলা হয়েছিল।পুরো গাছ কাটাঁর বিষয়ে আমি কিছু জানি না। গাছ কাটার লিখত কোন চিঠি হেড অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি কোন কথা বলেননি।গাছ কাঁটার বিষয় আসলে দেখবেন বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

নতুন করে কাঁঠাল গাছ কাঁটার বিষয়ে জানতে ১৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.এস এম ফয়সাল (অশ্রু )কে ফোন করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলেন কোন সাহসে অফিসে ওঠছো অফিসে ওঠার সাহস পেলে কোথায় থেকে,আমার অনুমতি ছাড়া বাগানে কেন প্রবেশ করেছো ।গাছ কাটাঁর বিষয়ে তিনি এড়িয়ে গেছেন।ড.এস এম ফয়সাল অশ্রু কে নিউজ সম্পর্কে বক্তব্যের জন্য ফোন করার কারনে তিনি রামগড় থানার পুলিশ দিয়ে দৈনিক মানবাধিকার ক্রাইম বার্তার রামগড় প্রতিনিধি মোঃ সাইফুল ইসলাম ও দৈনিক আমাদের অর্থনৈতি পত্রিকার সাংবাদিক মোশারফ হোসেনকে অপমান করার অপচেষ্টা করেছেন।

উল্লেখ যে রামগড় উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা এহিয়ার আহমেদ জানান সরকারি গাছ কাটঁতে হলে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ে লিখত আবেদন করতে হয়।তার পর যে দপ্তরের গাছ সে দপ্তরের হেড অফিস থেকে বন বিভাগ কে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়।এদিকে গাছ কাঁটার নিউজ করাতে ড.ফয়সাল অশ্রু পরবর্তীতে গবেষণায় সাংবাদিকরা প্রবেশ করলে বেধেঁ রাখারও হুমকি দেন।

Leave a Reply