ভ্রাম‍্যমান প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :-

রেলের টাকা বহনকারী সিন্দুকের ভিতরে ঢুকেছে অজানা ভূত”,গাযেব টিকিট বিক্রির ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা, তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে ৪ সদস্য কমিটি
রেলওয়ের লাকসাম -নোয়াখালী রুটের ছয়টি স্টেশনের টিকিট বিক্রির ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা গায়েবের ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনা তদন্তে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ২৯ ডিসেম্বর সকালে নোয়াখালী থেকে ছাড়ে আসা লাকসাম গামী ৪৫ আপ সমতট এক্সপ্রেস ট্রেনে লাকিজ ভ‍্যানে রেলওয়ের বিশেষ সিন্দুকে টিকেট বিক্রির ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা ৬টি থলেতে ভরা হয়। এরপর সেগুলো সীলগালা করে বিশেষ সিন্দুকে ঢুকিয়ে পুনরায় সিল করে তা লাকসাম স্টেশন মাস্টার বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয। লাকসাম স্টেশন মাস্টার শাহাবুদ্দিন সিন্দুকটি ট্রেনের গার্ড থেকে বুঝে নেওযার কথা থাকলেও উক্ত ট্রেনের দায়িত্বে থাকা গার্ড আলম হতে তিনি খামখেযালী করে তিনি আর বুঝে নেন নি। সিন্দুকটি রাখা ছিল লাকসাম স্টেশন প্লাটফর্মে। পরবর্তী সময়ে ঐ দিনেই ২৯ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ৩৮ ডাউন নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে সিন্দুকটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে তুলতে গিয়ে কুলিদের নজরে পডে সিন্দুকের তালার দিকে, দেখতে পায তারা তালার উপর কোন সিলগালা করা পেকিং নেই। তৎখনাত তারা লাকসাম স্টেশনের বড মাষ্টার শাহাবুদ্দিন কে অবগত করেন এবং তিনি নিজেও এসে দেখতে পান এরপরও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সিন্দুকের গায়ে নতুন একটি কার্ড ট্যাগ লাগিয়ে তডিঘডিকরে স্টেশন কুলির মাধ্যমে ট্রেনের লাকিজ ভ‍্যানে তুলে দিয়ে ট্রেনের গার্ড কে বুঝিয়ে দেন।
ট্রেনের গার্ড চট্টগ্রাম পে এন্ড ক্যাশ অফিসে সিন্দুকটি বুঝিয়ে দিতে গেলে দেখা যায় সিন্ধুকটির তালা ঝুলছে কিন্তু ভেতরে কোন টাকা নেই। সিন্দুক থেকে হাওয়া হয়ে যায় ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা। পরবর্তী চট্টগ্রাম পে এন্ডক‍্যাশ অফিসের ম‍্যানেজার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কে অবগত করেন।
এ বিষয়ে লাকসাম স্টেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, নিয়ম অনুযায়ী স্টেশন মাস্টারের নজরে যেকোনো ত্রুটি এলে তা ফোনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করতে হয়। এ ঘটনায় তিনি ঊর্ধ্বতন কাউকে না জানিয়ে নতুন কার্ড ট্যাগ লাগিয়ে সিন্দুকটি চট্টগ্রাম কেন পাঠালেন তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
এ ব্যাপারে লাকসাম স্টেশন মাস্টার শাহাবুদ্দিনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নোয়াখালী স্টেশন মাস্টারের মুঠোফোনেও একাধিকবার কল করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক মনিরুজ্জামান (সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা) টাকা গায়েব হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘গত ২ জানুয়ারি এ ঘটনা তদন্ত করতে লাকসাম গিয়েছি আমরা। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি কুলিদের বক্তব্য গ্রহন করেছি। আরো কয়েকবার সেখানে যেতে হবে। তবে প্রাথমিক তদন্তে বুঝা যায়, নোয়াখালী ও লাকসামের মধ্যেই কোথাও এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, লাকসাম স্টেশন থেকে নোয়াখালী পথে ৬টি স্টেশনের টিকিট বিক্রির টাকা চট্টগ্রাম ক্যাশ অফিসে পাঠানোর সময় এমন কান্ড ঘটে। নিয়মানুযায়ী টাকা বহনে রেলওয়ের আরএনবি বা জিআরপি পুলিশ থাকার কথা৷ এই টাকাগুলো পরিবহনে তাদের কাউকে রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

Leave a Reply