সোহেল হোসেন লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
একজন ব্যতিক্রমী ইউএনও কামরুজ্জামান
তথ্য প্রযুক্তির যোগে মানুষের কাছে মোবাইল ফোনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তবে কর্মব্যস্ততার দোহাই দিয়ে মোবাইল ফোন রিসিভ করেন না এমনও সরকারি কর্মকর্তার সংখ্যা কমনা। এমনকি সরকারের জরুরি বিভাগে থাকা লক্ষ্মীপুরে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ফোনে দৈনিক একাধিকবার কল করলেও রিসিভ করেন না তারা।
আবার এমনও কর্মকর্তা আছেন যিনি তার মোবাইল নাম্বার উপজেলা পরিষদের দেয়ালে ঝুলিয়ে রেখেছেন। দৈনিক শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও মোবাইলের প্রতিটি কল রিসিভ করেন। তথ্য ও সঠিক পরামর্শ দিয়ে পুরো একটি উপজেলার মানুষকে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। নিরলসভাবে কাজ করে ইতোমধ্যে উপজেলাবাসীর হৃদয়ে স্থান পেয়েছেন তিনি। তার ওপর সন্তুষ্ট উপজেলাবাসী।
বলছি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) মোঃ কামরুজ্জামানের কথা। তিনি একদিকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে সরকারি নির্দেশনা মানতে হাট-বাজারে বিভিন্ন প্রচারণা করছেন। আইন অমান্য কারীদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিচ্ছেন। অন্যদিকে প্রতিনিয়িত ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। মুজিব জম্মশত বাষির্কী উপলক্ষ্যে সরকারের উপহার দেয়া জমিসহ ঘরের তদারিক করছেন। এরমধ্যে অফিস পরিচালনা ও বিভিন্ন বিলে স্বাক্ষর অব্যাহত রয়েছে। এত ব্যস্ততার মাঝেও তার ফোনে যে কোন ব্যক্তি কল করলে রিসিভ করে প্রয়োজনী বিষয়ে কথা বলে সহযোগীতা করেন মোঃ কামরুজ্জামান।
মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২ টায় কমলনগর উপজেলা পরিষদের দেয়ালে বাংলায় বড় অক্ষরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) মোঃ কামরুজ্জামানের মোবাইল নাম্বার দেখা গেছে। একই সাথে তার অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল নাম্বারও দেয়া আছে।
উপজেলার মানুষ এ অফিসে যে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে এসে যেন ভোগান্তিতে পড়তে না হয় সেজন্য এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর নিয়ে জানা গেছে উপজেলার চর লরেঞ্চ বাজারে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গেলেন ইউএনও মোঃ কামরুজ্জামান। দুপুর ১টা ৩ মিনিটে প্রতিবেদক ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করে। সরকারি একাধিক স্কুল ও কলেজ শিক্ষকদের বেতন বাইতে স্বাক্ষর করলেন মোঃ কামরুজ্জামান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বাসানো একাধিক ইজারাদারকে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ইউএনও অফিসের একাধিক ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিসের বেশ কয়েকটি ফাইল স্বাক্ষর করতেও দেখা গেছে। ইদের আগেই প্রত্যেক ইউনিয়নে ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণের লিষ্টও করেন এসময়।
এরপর ঘড়ির কাটা যখন ২টা ৫৩ মিনিট তখন তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি ঠিকাদারী সাইড পরিদর্শনে গেলেন। সেখান কাজ সেরে বাসায়। তার পর হয়তো দুপুরের খাবার। এত ব্যস্ততার মাঝেও তার মোবাইলে আসা প্রত্যেকটি কল তিনি রিসিভ করেন।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, মানুষ ও দেশের জন্য কাজ করতে ভালো লাগে। এ উপজেলায় সংসদ সদস্য বেশি থাকেন না। এজন্য অফিসিয়াল কাজ ছাড়াও ত্রাণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আমাকে পরিচাল না করতে হচ্ছে। এ কারনে ব্যস্ততা একটু বেশি। তবে মানুষের জন্য কাজ করে আত্মতৃপ্তি পাচ্ছি।

Leave a Reply