সোহেল হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরে ১৯৭৩ইং সালের ২৩শে জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লক্ষীপুর সফরে আসেন। তৎকালীন লক্ষীপুর সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি নছির আহম্মদ ভূইঁয়ার উত্তর তেমুহনীতে অবস্থিত নিজ বাড়িতে বঙ্গবন্ধু উঠান বৈঠক করেন। বৈঠকের একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু যখন লক্ষ্য করেন যে -নছির আহম্মদ ভূইঁয়ার থাকার ঘরটি খুবই সাদামাটা আর অনেক পুরানো।
তখন বঙ্গবন্ধু বলেন,
ভূইঁয়া সাহেব!আপনি তো নিজের জন্য কিছুই করেননি!
আপনি ঢাকা শহরে আমার তরফ থেকে একটা বাড়ি নিন,নিজের জন্য একটা গাড়ি নিন আর কিছু জমি নিন!
বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবের উত্তরে ভূইঁয়া সাহেব বলেন – না,শেখ সাহেব!আমি নিজের জন্য কিছুই চাই না!
আপনি আমার এলাকার মানুষের কল্যাণের জন্য একটা পৌরসভা দেন।
তখন বঙ্গবন্ধু ঐ বৈঠকে বসে থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লক্ষীপুরে একটি পৌরসভা অনুমোদনের আদেশ দেন।
লক্ষীপুরের আওয়ামী রাজনীতিতে লৌহমানবখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,রাজনীতির শুদ্ধ পুরুষ,সৎ,নির্লোভ আর নিবেদিত ও মজলুম জননেতা মরহুম নছির আহম্মদ ভূইঁয়া নিজের আয়েশি আর ভোগ -বিলাসের জীবনযাপনের কথা চিন্তা না করে জনগণের কল্যাণের কথা ভেবে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করে প্রকৃত দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে নিজেকে লক্ষীপুরবাসীর হ্নদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নেন।
এই মহান নেতার প্রতি জানাই স্বশ্রদ্ধচিত্ত্বে – “বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি”।
সেই সাথে চরম ধিক্কার জানাই! ঐসব ভূমিদস্যু,জবরদখলকারী,গাদ্দারদের প্রতি যারা এ মহান নেতার জমি ভাড়া নিয়ে চলে-বলে,কলে-কৌশলে অদ্যাবধি জবর দখল করে আছে।
আর পৃথিবীর সমস্ত ঘৃণা প্রকাশ করছি! ঐসব ক্ষমতাধর নেতাদের প্রতি যারা শুধুমাত্র আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ থাকায় জবরদখলকারীদের ব্যাপারে ন্যায় -নীতিতে অটল থেকে সঠিক বিচার করতে কুন্ঠিতবোধ করে।
পরিশেষে বলবো – মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা ঐসব ক্ষমতাধর নেতাদের সহীহ বুজ আর হেদায়েত দান করুন,আমীন।

Leave a Reply