সোহেল হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে আত-তামরীন স্কুলের পাশে সাফওয়ান টাওয়ার নামে গড়ে উঠা বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় এবং দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভবনটি। ভবনটি মাদক কারবারিদের কাছে পরিণত হয়েছে মাদক বিক্রি ও সেবনের নিরাপদ আস্তানায়।
ভবনের প্রত্যেক তলায় সন্ধ্যার পরপরই দেহ ব্যবসার পাশাপাশি বসে মাদক ও জুয়ার আড্ডা। । প্রতি রাতেই সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা ও চিৎকারে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সেবনকারীরা এখানে ছুটে আসেন। বিকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত এই ভবনে আনাগোনা থাকে মাদক চোরাকারবারি ও সেবনকারীদের। মাদক চোরাকারবারি ও সেবনকারীদের ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খোলার সাহস করেন না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চন্দ্রগঞ্জ বাজারটি নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর সীমান্তবর্তী হওয়ায় দুই জেলার মাদক কারবারিরা নিরাপদ স্থান হিসাবে এই ভবনটিকে বেচে নেয়। ১০ তলা বিশিষ্ট এই ভবনে কেউ না থাকায় দিনের বেলায়ও মানুষের সমাগম থাকে না। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক অনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যবহার করা হয় এই ভবনটি।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পরে এখানে মাদক ও জুয়ার আসর বসে। রাত যতই বাড়ে মাদকসেবী ও জুয়ারীদের চিৎকার-চেচামেচিতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। আর অনেক সময় ভবনের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজ হয়। অনৈতিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় কয়েকজনকে হাতে নাতে ধরে পরিবারের হেফাজতে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে এই ভবনে। এছাড়াও বেশ কয়েকবার ভবনের কক্ষ গুলোতে ফেন্সিডিল ও মদের বোতল পাওয়া যায়। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিশোর গ্যাং এর লিডাররা তাদের বাহিনী নিয়ে আড্ডা জমায় এই ভবনে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মাদক চোরাকারবার ও সেবনের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্যই এই বাড়িতে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনের ব্যাপারে জানে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’ তারা আরও বলেন, ‘প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের কারণে এখানে ব্যবসা বানিজ্য করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ‘মাদক চোরাকারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে স্থানীয়ভাবে নানা জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। কেননা রাজনীতির পদকে কয়েকজন লোক আলাদীনের চেরাক হিসাবে ব্যবহার করে তাদের ছত্রছায়ায় গুটি কয়েকজন লোকদিয়ে এই কারবার গুলো করে থাকে। তাই এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে আমার পক্ষ থেকে সহযোগীতা থাকবে।’
এই দিকে সাফওয়ান টাওয়ারের ফ্ল্যাট গুলোর একাধিক মালিক হওয়ায় কোন ফ্ল্যাট মালিকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এই সব বিষয়ে জানতে চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একে ফজলুল হকের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply