লক্ষ্মীপুরের শহর বাজার মনিটরিং করার কেউ কি নেই?
তরমুজের বাজারে আগুন!

সোহেল হোসেন লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।
লক্ষ্মীপুর জেলা সহ সারাদেশে বাজার দর বরাবরই বাড়তি রমজানে। কোনো কারণে বা কোনো ছুতায় যদি কোনো দ্রব্যের মূল্য বাড়ে তাহলে কোন এক অদৃশ্য সুতার টানে সব পণ্যমূল্য উপরের দিকে দৌড়াতে থাকে। তখন তা কোনো নিয়মের ধার ধারে না। বাজারে ঘাটতি বা সয়লাবের ওপরেও নির্ভর করে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটাই বাংলাদেশের বাজার দরের প্রেক্ষাপট। দুঃখজনক যে, এর লাগাম টানার মতো কেউ নেই।

আমাদের দেশের দুটি ফল বিশেষ করে তরমুজ আর কাঁঠাল আমজনতার ফল। যার একটা ফলে পুরা পরিবারের চাহিদা মেটে। কাজেই এর সরবরাহ বা বেচাকেনা ওজননির্ভর হলে তা শুধু বেমানানই নয়, দেশের খেটে খাওয়া স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর জন্য রীতিমতো চপেটাঘাত। এই খরার দিনে, চরম তাপদাহে সারাদিন রোজা রাখার পর তরমুজ বেশ মুখরোচক এবং সহজসাধ্য। এই ফলটাকেও অসাধু এক সিন্ডিকেট কেজি দরে বিক্রির প্রচলন শুরু করেছে। তাতে ভোক্তা সাধারণের অনেকের জন্যই তা ক্রয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, মাঝারি একটা তরমুজই পাঁচশ সাড়ে পাঁচশ টাকা। বড়র তো কথাই নেই। করোনাকালের এই দুর্দিনে অনেকেরই এত দাম দিয়ে তরমুজ কেনার সামর্থ্য নেই। তাহলে কি তরমুজ শুধু ধনীরা খাবে?

এ তো গেল গরিব ভোক্তাদের কথা। এদের চেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো, অভাগা কৃষকদের। তারা কষ্ট করে ফসল ফলায় একটু সচ্ছলতার আশায়। অথচ তারা বরাবরই ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়, লাভবান হয় মধ্যস্বত্বভোগী। একজন কৃষকের কাছ থেকে সাড়ে ৫ টাকা কেজিতে কিনে ফড়িয়ারা তা বিক্রি করছে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে। আবার কোনো কোনো এলাকা থেকে পিস হিসেবে কিনে ফড়িয়ারা কেজি দরে বিক্রি করছে। এতে একদিকে কৃষক মার খাচ্ছে। অন্যদিকে ভোক্তা সাধারণ বঞ্চিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপট শুধু তরমুজের নয়। প্রতিটি মৌসুমি ফল এবং তরিতরকারি, শাকসবজি সব একই নিয়মে বেচাকেনা হয়। এই কারসাজির বিপণনে চাষিকে কম দাম দিয়ে ঠকানো হচ্ছে এবং ভোক্তার সাথে প্রতারণা করে বাড়তি দাম নেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় জনমনে একটা প্রশ্ন চাউর হচ্ছে যে, আমাদের বাজার মনিটরিং-এ কেউ আছে কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *