সোহেল হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:
যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল আজিম বাবরসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সভা শেষে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে সদর হাসপাতালে দেখতে যান। বাবর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান পবন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান চপল ও উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শামছুল ইসলাম পাটওয়ারী।
কেন্দ্রীয় নেতারা গণমাধ্যমকে জানান, নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খল ঘটনার কথা তারা শুনেছেন। এর মধ্যে বাবর হাসপাতালে ভর্তি শুনে সভা শেষে তারা তাকে দেখতে এসেছেন।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা জানাতে প্রার্থীতা ঘোষণা করে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে সাবেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ১০ নেতা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের গণকবর ও শিশু পরিবার এলাকার সড়কে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বাবর ও সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ইউনুছ হাওলাদার রুপমসহ তাদের অনুসারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে এ দুই নেতাসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। জেলা যুবলীগের সভাপতি এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপুর নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এ দুই নেতা।
এদিকে দুপুর ২টার দিকে সালাহ উদ্দিন টিপুর হাতে ব্যান্ডেজসহ কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত অবস্থায় তার ছবিসহ বিভিন্ন লেখা দিয়ে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সমর্থকরা।
আহত অন্যরা হলেন- জামাল উদ্দিন, আবদুল মতিন, মো. খোকন, জামাল হোসেন ও মামুন হোসেনসহ ১২ জন। তারা সদর হাসপাতাল, রামগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌর আধুনিক বিপনী বিতানের সোনার বাংলা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। ২০১৭ইং সালের ২৩ নভেম্বর টিপুকে সভাপতি ও আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছরের জন্য কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর নানা বিতর্কে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যুবলীগের কমিটি এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। কমিটি গঠনের প্রায় চার বছর পর এটি প্রথম বর্ধিত সভা ছিল।
আহত সৈয়দ নুরুল আজিম বাবর বলেন, আমি সবসময় রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার। রাজনীতি করতে গিয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছি। আজ কেন্দ্রীয় নেতাদের অভ্যর্থনা জানাতে অপেক্ষারত অবস্থায় টিপু-নোমানসহ তাদের লোকজন আমার ওপর হামলা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। জেলা যুবলীগের সভাপতি এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু জানান, বাবরের সঙ্গে তার বাদানুবাদ হয়েছে। কাউকে মারধর করা হয়নি। তারা মিথ্যা কথা বলছেন।
প্রসঙ্গত, যুবলীগ নেতা টিপু সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি গেল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র আবু তাহেরের মেজ ছেলে।

Leave a Reply