সোহেল হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুর সিটি হসপিটালের মালিক ডাঃ রাকিবুল আহছান এর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা’র অভিযোগ উঠেছে। এতে ১লাখ ২০হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী শিশু মোঃ ইউনুস (৯)’র বাবা।
বিচার চেয়ে জেলা সিভিল সার্জন এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী’র বাবা। অভিযোগ তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন ডাঃ নিজাম উদ্দিন, ডাঃসালাহ উদ্দিন,ডাঃ সাইফুল ইসলাম।
মোঃ ইউনুস দক্ষিন হামছাদী ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রাম এলাকায় ব্যবসায়ী রেজাউল করীম আরজুর দ্বিতীয় পুত্র।
আরজু ন্যাশনাল প্রেস কে বলেন, হঠাৎ আমার ছেলে ইউনিসের বার্স্ট অ্যাপেন্ডিক্স এর ব্যাথা শুরু হয়। যার কারণে সে খাওয়া-দাওয়া খেতে পারছিলো না। গত ২৪ মার্চে ব্যাথা আরও বেড়ে গেলে তাকে লক্ষ্মীপুর সিটি হসপিটাল নিয়ে যাই। সেখানে ডাঃরাকিবুল আহছান ৩৩ হাজার টাকা কন্ট্রাক্ট করে বার্স্ট এ্যাপেনডিক্স অপারেশন করেন। পরে ২৯ মার্চ পযর্ন্ত ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেওয়ার আমাদের ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সেখানে ১৭ হাজার টাকা ঔষধ কিনতে হয়েছে। পরবর্তী ৬৫ দিনে ৯ বার সিটি হসপিটালে গিয়ে ড্রেসিং করাই এবং ৪ হাজার টাকা ডাক্তার ফি দিয়েছি। তখন আরও ১৬ হাজার টাকার ঔষধ কিনতে হয়। কিন্তু চিকিৎসায় কোন অগ্রগতি নেই? ড্রেসিং করার পরও সেলাই ফেটে রক্ত পুঁজ বের হয়। ব্যাথাও তীব্র আকার ধারণ করে।
আবারও ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ড্রেসিং করে দিয়ে বলে আর আসা লাগবে না। তিন দিন পর ব্যান্ডেজ খুলে ফেলতে বলেন। ব্যান্ডেজ খুলে দেখি সেলাই গুলো ছুটে আছে এবং কাঁচা রক্ত ফুঁজ বের হচ্ছে। তীব্র ব্যাথা কারনে শিশুটি চিৎকার করছে।
নিরুপায় হয়ে গত ১২ জুন ঢাকা ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করি। অধ্যাপক ডাঃ মো: আবদুল ওহাব খাঁন পূর্বের অপারেশনের জায়গায় পরীক্ষা -নিরীক্ষা করে ১৬ জুন নতুন করে অপারেশন করেন। এসময় শিশুর পেটের ভিতর থেকে অপ্রয়োজনীয় কিছু সুতা,দুই টুকরো মাংস বের করে আমাদের দেখান। অপ্রয়োজনী মাংস ও সুতার কারণে বার বার সেলাই ছুটে যেতো এবং রক্ত পুঁজ বের হতো বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে ঢাকা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আমার আরও ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ছে। মোট মিলিয়ে আমার ১লাখ ২০হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পোহাতে হয়েছে মানসিক দূর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে গত ১৯ জুলাই জেলা সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ডাঃ রাকিবুল আহছানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি।
এদিকে সিটি হাসপাতালের মালিক ডাঃ রাকিবুল আহছান বলেন, বার্স্ট এ্যাপেনডিক্স রোগটি খুবই ক্ষতিকর। অপারেশনের পর রোগী দুই এক মাস ধৈর্য ধারণ করতে হয়। রোগীর পরিবার আমার সাথে যোগাযোগ না করে ঢাকা নিয়ে চিকিৎসা করান। এখানে আমার অপরাধ কি।
এই বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গাফফার বলেন, সিটি হাসপাতালের মালিক ডাঃ রাকিবুল আহসানের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্য’র কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply