আবুল হুসেন সাজু মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:
লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে”। জ্ঞানের চর্চা করুন কারণ “জ্ঞানই শক্তি”! এমনি আরো কত উক্তি বা আপ্তবাক্য ছোট কাল হতেই শুনে এসেছি।কিন্তু জীবনের এই টার্নিং পয়েন্টে এসে চারপাশে যা চোখে পড়ে তা দেখে মাঝেমাঝে ওসব বাক্যকে অনেকখানি অন্তসারশূণ্য বলে মনে হয়।

লেখাপড়া করে মহা যোগ্যতা অর্জন করেও বহু উচ্চ শিক্ষিত মানুষকে গাড়ি ঘোড়ায় চড়া তো পড়ে মরুক অনাহারে দিনাতিপাত করার উদাহরণ কিন্তু আমাদের দেশে কম নেই।জ্ঞান, যোগ্যতা, দক্ষতা, মেধা, মননশীলতা অনেক সময় হিমঘরে আবদ্ধ হয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকে!

জ্ঞানী মানুষকে কখনো নানাভাবে অপমান অপদস্থ কিংবা অসম্মান করার জন্যে একটা গোষ্ঠি নিরন্তর চেষ্টা করে, ফলে জ্ঞানকে শক্তি বলবো না অপশক্তি বলবো, ভেবে পাই না, অনেকটা ধন্ধে পড়ে যাই।প্রক্ষান্তরে- অযোগ্যতা, অদক্ষতা, নামকাওয়াস্তে পড়াশুনা সম্পন্ন অনেক মানুষকে সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়; তারা অঢেল বিত্ত বৈভব অর্জনের ফলে লাভ করেন সামাজিক সম্মান।

একজন ব্যক্তির জ্ঞান, যোগ্যতা, দক্ষতা আছে দেশ জাতি ও সমাজের অনেক কিছু করার, সুযোগও আছে; কিন্তু এই সমাজ সেই মেধাকে ও সুযোগকে সব সময় কাজে লাগায় না। খুব সহজে যাদের মেধা ও মননশীলতাকে কাজে লাগানো যেত সেটা সকল ক্ষেত্রে হয় না, নানান সব ঠুনকো আর অর্থহীন অজুহাতে। তাই অবস্থাদৃষ্টে মাঝেমাঝেই মনে হয়: “যা করতে পারতাম, তা পারলাম না; যা দেখাতে পারতাম তা দেখানো হলো না। এ ব্যর্থতার দায়ও আমার নয়”!

আমি তো কাজ করতেই চেয়েছিলাম কিন্তু অপার সুযোগ থাকা সত্বেও আমাকে কাজে লাগানো হলো না; আসলে কাজই তো আমার দ্বারা সম্পাদিত হতে চায় না বা যারা আমার কাজের নিয়ন্ত্রক তারা আমাকে পছন্দ করে না! অনেক সৃষ্টিশীল আর চমকপ্রদ কিছু চমক দেখানোর দীপ্তিময়তা আমার মধ্যে থাকা সত্বেও অজ্ঞাত কারণে সে সুযোগ আমি পেলাম না। কার্যত: এ দায়টা কিন্তু আমার নয় কারণ এখানে আমি নিছক একজন নিরব দর্শক!! এ দায়ভার তাদের উপর, যারা আমার কর্তা।

চারদিকের এতসব অপকর্ম আর সামাজিক অসংগতি দেখে কিম্বদন্তী চলচিত্র বোদ্ধা সত্যজিৎ রায়ের কাব্যিক চলচিত্র “হীরক রাজার দেশে” এর কয়েকটি সংলাপ বেশ মনে পড়ে:
“লেখা পড়া করে যে
অনাহারে মরে সে”।
——————–
“জানার কোন শেষ নাই
জানার চেষ্টা বৃথা তাই”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *