মো.সোহেল রানা, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কঠোর লকডাউন শিথিলের প্রথম দিনে ই মুন্সিগঞ্জের লৌহজেংর শিমুলিয়া ঘাটে বেড়েছে দেশের দক্ষিনাঞ্চলের ঘরমুখী মানুষের চাপ। সেই সঙ্গে যানবাহনের চাপ তো আছেই । গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে পারাপারের অপেক্ষায় ছিল কয়েক শতাধিক যানবাহন। ঐ সময় ঘাটে যাত্রীর চাপ থাকলেও লঞ্চ চলাচলের কারনে বেলা বাড়ার সাথে সাথে চাপ কিছুটা কমছে। তবে লঞ্চ ও ফেরি কোথাও মানা হচ্ছে না সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি। অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও ধারন ক্ষমতার অধিক যাত্রী নিয়েই চলাচল করছে লঞ্চ ও ফেরি।

সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানান প্রান্ত থেকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে চড়ে দেশের দক্ষিনাঞ্চলের যাত্রীরা ঘাটে আসছেন। এতে বাড়তি যানবাহনের চাপ বাড়ায় ফেরিতে যানবাহন পারাপারে বেগ পেতে হচ্ছে। গণপরিবহন চালু হওয়ায় ঘাটে আসতে সড়কপথে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। বিআইডাব্লিউটিএর শিমুলিয়া নদী বন্দরের কর্মকর্তা মো. সোলায়মান জানান, বর্তমানে নৌরুটে ৭৭টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ঘাটে মোটামুটি যাত্রী চাপ রয়েছে। সকালবেলা যাত্রী চাপ বেশি থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে যাত্রীর চাপ কমছে। নিয়ম অনুযায়ী ৬০ ভাগ যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চালানোর জন্য নির্দেশনা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের লঞ্চে ওঠার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়াঘাটের ব্যবস্থাপক ফয়সাল আহমেদ জানান, নৌরুটে বর্তমানে ১০টি ফেরি চলছে। ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী মিলিয়ে প্রায় ৬ শতাধিক যানবাহন রয়েছে। লঞ্চ চালু থাকায় ফেরিতে যাত্রীর চাপ কমেছে। তবে গণপরিবহন ও প্রচুর ব্যক্তিগত গাড়ি ঘাটে আসায় পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারে বেগ পেতে হচ্ছে। মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ জাকির হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘাটে এ মুহূর্তে ৩০০টির মতো পণ্যবাহী, ২৫০টির মতো ছোট গাড়ি এবং ২৫ থেকে ৩০ টি বাসসহ সব মিলিয়ে ৬ শতাধিক গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। লঞ্চ চলায় ফেরিতে যাত্রীর চাপ নেই। মাওয়া নৌ-পুলিশের ইনচার্জ সিরাজুল কবির বলেন, বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় প্রচুর যাত্রী ও যানবাহন ঘাটে আসছে। নৌযানগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী যাত্রী পারাপারের জন্য নৌ-পুলিশ তদারক করছে। যেসব লঞ্চে অধিক যাত্রী ধারণ করা হচ্ছে ও নিয়ম অমান্য করছে, তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply