পনির শেরপুর সদর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরে ফুল দিবে কথা বলে প্রাইমারি পড়ুয়া এক কণ্যাশিশু (৬)কে নার্সারিতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে একই এলাকার প্রতিবেশি লম্পট শহিদুল ইসলাম শহির (৫০)। গত ২৪ মার্চ দুপুরে নার্সারির মালিক শহিরের বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ওই কণ্যাশিশুটির বাবা সাদ্দাম হোসেন ভুট্রু বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামী শহিদুল ইসলাম শহির লছমনপুর পশ্চিম পাড়ার মৃত আব্দুর সাত্তার এর ছেলে।
মামলা ও এলকাবাসী সূত্রে জানা যায়, লছমনপুর পশ্চিমপাড়া এলকার নিরিহ সাদ্দাম হোসেন ভুট্রু ও তার স্ত্রী লাকী আক্তার প্রতিদিনের ন্যায় দুটি কণ্যা সন্তানকে রেখে ইদ্রিস ডেইরী ফার্মে কৃষি কাজ করার উদ্দেশ্যে চলে আসেন। বাড়িতে তাদের উপস্থিতি না থাকায় ওই কণ্যা শিশু সন্তান (৬) কে নার্সারি থেকে ফুল ও টাকা দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে প্রথমে নার্সারি পরবর্তী তার বাড়িতে নিয়ে যান শহির। পরে সেখানে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ওই শিশুর পড়নে প্যান্ট খুলে তৈল দ্বারা ধর্ষণ করতে গেলে শিশুটি ডাক চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশে থাকা নারী পুরুষগণ ঘটনাস্থলে উপস্থিল হলে লম্পট শহির সেখান থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পরে শিশুটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। এমন ঘটনা এলাকায় ছড়াছড়ি হলে বিক্ষুব্ধ হতে থাকেন স্থানীয়রা। পরবর্তী ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করে স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে গ্রাম্য শালিশ ডাকেন মামলার বাদী ভুট্রু। গ্রামের মাতামুরুব্বি গণ শহিদুল ইসলাম শহিরকে শালিশে উপস্থিত হতে বললে সেখানে আসেননি। বরং এ ঘটনা তার কাছে কিছুইনা এমনটা বলে আদালতের মাধ্যমে সমাধান করবেন বলে সাব- জানিয়ে দেন।
এদিকে গ্রামের শালিশে কোন সমাধান না পাওয়ায় পরেরদিন ২৭মার্চ সাদ্দাম হোসেন ভুট্রু বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি মামলা করেন।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী অশেষ সেন গুপ্ত জানান, আমাদের এলাকায় এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমরা এলাকাবাসী হিসেবে এ ঘটনায় তদন্ত পূর্বক জড়িত ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তির দাবি করছি।
আফর উদ্দিন জানান, শিশু সন্তাননের সাথে এ ধরনের অপরাধ যোগ্য কাজ করেছেন বলে শুনেছি। এর আগেও তিনি এমন ঘটনা কয়েকটি ঘটিয়েছে যা এলাকাবাসীর কাছে দৃশ্যমান। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
আজাদ মিয়া জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি শহির এমন কাজের অপরাধে এলাকার বিচারকগণ তাকে প্রায় ২ বছর একঘরিয়া করে রেখেছিলো। একটি দুটি নয় তিনি বেশ কয়েকটি এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এলকার সম্মান তার দ্বারাই ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমরা চাই তার একটা উপযুক্ত শাস্তি হোক।
শিশুটির জেঠা ফেরদৌস মিয়া জানান, আমাদের সকলের আদরের ভাতিজির সাথে যে আচরন করা হয়েছে যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারিনা। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। ইতিমধ্যে মামলার আসামী ও তার সঙ্গপঙ্গরা মামলা উঠায় নিতে আমাদের হুমকি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি এ ঘটনাটি শুনেছেন বলে জানান।
এব্যাপারে শেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-মামুন ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনার শেরপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রেখেছেন শেরপুর সদর থানা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *