দারুন একটা বিষয় বলি দেশে মিরাজের টেস্ট গড় ২৬, আর দেশের বাইরে ৬২ ; এরপর সর্বশেষ বাংলাদেশের হয়ে যে পেসার পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তার নাম রবিউল ইসলাম, সেটা আবার ২০১৪ সালে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। আর এরপর আজকে তাইজুলের পাঁচ উইকেট যতোটা না তাইজুল নিয়েছেন তার থেকে বেশি দান করেছেন লংকান’রা। আরো বলি দেশের হয়ে সাকিব এর সর্বমোট ১৮বার পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি আছে,তারপর যে আছে তার নাম তাইজুল সে ভদ্রলোক পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ৮ বার। আর তাসকিনের হার্ট আউট বোলিং এ যারা মুগ্ধ তাদের বলি আমাদের দেশের পিচে গত পাঁচ বছরে সর্বাধিক উইকেট লাভে আগে থাকে স্পিনার’রা।

নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের ক্রিকেটের শরীরে যেন জ্বর থাকে বারো মাস,তারপর নিউজিল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর কাছে টেস্টে ধবল ধোলায় তো আছেই; ঝড় ঝাপ্টার পর লংকান পিচ কিউরেটরদের কল্যানে ব্যাটসম্যান দের প্রফেশনাল ব্যাটিং এর সুবাদে সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র করলেও দ্বিতীয় টেস্টে ধুঁকছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আরো ব্যাপক আলোচনা হতে পারে,করা যাবে।চলুন আজ সমস্যার শুরু থেকে আপনাদের জানিয়ে রাখি কিছু বিষয়..
১.
সাকিব টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চান না বা খেলবেন না, অথবা টেস্টের প্রতি সাকিবের অনীহা।
আমাদের দেশের অধিকাংশ নাম করা বা খ্যাত শিল্পী লেখক যাঁরা তারা একটা সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্যের জন্য হাত পাতেন। কিছু টাকা পান, জীবন চলে।
হুমায়ুন ফরিদী আবার লেখালেখি আর কিছু সচেতন মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে হুমায়ুন ফরীদি থেকে কংকাল ফরিদীতে রুপান্তর হলে একটা পদক টদক পান।
মনের সুখ বা শান্তনা আপনি যা বলেন তাই।

২.
আমাদের আম্প্যায়ার নামক কচা গাছ অথবা শিমুল গাছ মাঠে দাড়িয়ে থাকেন কাঁকতাড়ুয়ার মতো। আগে থেকেই বোর্ড সভাপতির দল অথবা তার আশীর্বাদ প্রাপ্ত দল ব্যাটে হোক, বলে হোক যেখানেই থাক সুবিধা পাবেই।
পায়ে লাগলে আউট,ঘাড়ে লাগলে আউট, পাছায় লাগলেও লেগ বিফোর উইকেট হয়।

কিছু বললে আবার কাকতাড়ুয়াদের পক্ষ নেয় সভাপতি নামে ক্লাউন অথবা ভাড়ের গোষ্ঠী।
রাঙামাটির ওই ছেলেদের কথা বলছি জ্বি যারা কাকতাড়ুয়ার ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার ফলে একের পর এক ওয়াইড আর নো বল করতে থাকে (পড়ুন আম্প্যায়ারের পক্ষপাতিত্বমুলক সিদ্ধান্ত) আর পরে সার্কাস কমিটি গঠিত হয় আর সাঁজা পায় মাঠের ভিতর কান্না করা বাচ্চা ছেলে গুলো।

আবার আরেক শ্রেনীর মাঠকর্তা আছেন যারা বলেন আমাদের এভাবেই বলা হয়েছে,তোমাদের পায়ে যেন বল না লাগে সেভাবে খেলো।

যাহোক সাকিব এসব নিয়ে বলেন নি,আমি কিছু বিষয়, মানে সাকিব যে সুজন আর পাপন’কে দেবতার আসনে বসিয়েছেন একরকম তা বলা বাহুল্য তবে সাকিব কে আরো কিছু প্রশ্ন করা উচিত ছিল যেমন
১. বিশ্বকাপ জয়ী সদস্যরা এখন হাই পার্ফমেন্স দলের হয়ে খেললেও বা বিভিন্ন পর্যায়ে খেললেও আমাদের পাইপলাইনের কি হাল? কয়জন খেলোয়াড় উঠিয়ে এনেছেন আকরাম,নান্নু, সুজন পাপনরা?
২.সাকিব ধরা যাক যে শাস্তি পেল, রিয়াদ চলে যাবে,ম্যাশ নাই, মুশফিক থাকবে তারপর? তারপর কে? তারপর দলে কে আসবে? বছরের পর বছর পকেটে গুনে গুনে টাকা নেওয়ার আগে দুর্জয় কিংবা আকরাম’রা বলে যাক যে আরো ১৫ জন ব্যাকাপ প্লেয়ার আমাদের আছে।
৩. বছরের পর বছর ন্যাশনাল লীগ, এরপর ঢাকা লীগ এসবে পারফর্ম করেও তুষার ইমরান, নাফিজ, রাজ্জাকরা দলে জায়গা পায়নি কারন তরুনদের সুযোগ দিতে হবে এই সুর তুলেছেন কিন্তু কই সেই তরুন গুলো কারা? মিঠুন? নাকি সৌম্য?
৪.বোর্ড রাজনীতির কবলে পড়ে সালাউদ্দিন, রফিক কিংবা আফতাব সালেহ’রা কোচিং না করতে পারলে, বিসিবিতে জায়গা নিতে না পারলে কোন যোগ্যতা আর ক্ষমতার বলে সুজন এক জন মানুষ হয়ে চার রকমের দায়িত্ব পায়?
৫.সৈয়দ রাসেল,সাজেদুল,আবুল হাসান রাজু, জুবায়ের লিখন, শহীদ, নাসির রা শুধু কি নিজেদের ভুলের জন্য মাঠের বাইরে থেকে খরবের পাতা থেকে হারিয়েছে?
৬.চতুর্থ ধনী বোর্ড কয়েকটা পিচ আর বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ান,খুলনা,নারায়নগঞ্জের ওসমান আলী স্টেডিয়ামের কি উন্নতি করেছে?
৭.ডি সিলভার মতো উড়ুটে পিচ কিউরেটর কি করে কয়েস, শাহাদাতদে’র প্রেকটিস পিচ থেকে বের করে দেয় এটাও তো একটা প্রশ্ন না?

সাকিব এগুলো বলে নি।হয়তো এগুলো সে বলার কারন মনে করেনি কিন্তু দেশের ক্রিকেট কেনিয়া বা আফ্রিকা হয়ে যাবার হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য এই প্রশ্ন গুলো করার দরকার ছিল।

৩.

আকরাম খান, মানে উস্তাদ আকরাম খান বেশ ভালো করে যে সাকিবের লেটার পড়েনি তা একরকম নিশ্চিত। সাকিব এক বারো তার চিঠিতে বলেন নি যে তিনি টেস্ট খেলতে চান না বা তার টেস্ট খেলতে ইচ্ছা হয় না। দেখেন,
৫৭ টেস্টে ৩৯ গড়ে সাকিবের রান ৩৯৩০; ২০৯ ওয়ানডে তে প্রায় ৩৮ গড়ে ৬৪৩৬ রান; আবার টি-২০ তে ৭৬ ম্যাচে প্রায় ২৪ গড়ে ১৫৬৭ রান ;
আবার টেস্টে ৩১ এভারেজে ২১০ উইকেট।তার মানে সে টেস্টে রিতীমত সিদ্ধ তবে কোন ভাবে তার কথা কে বা তার বক্তব্য কে মিস ইন্টারপ্রেট করে দেখানো হচ্ছে যে সে টেস্ট খেলতে চায় না।
এখন সাকিব খেলতে চান কি না তা তার বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, সে শুধু শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে চান না কারন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে বাংলাদেশ তলানির দিকে আর সে টি-২০ বিশ্বকাপ ভারতে হবে তার প্রস্তুতি নিতে চান,ব্যাস।

৪.

কাউরেই দেবতা মানা ঠিক না। কাউরেই না।

সাকিবের খেলা এক নাম্বার, কথাবার্তায় সে কাটকাট, সে মাথাওয়ালা লোক- সবই ঠিক আছে। এর মানে এ-ই না, যে সে যাই বলবে সেইটাই বেদবাক্য হয়ে যাবে। এমনকি একই ইন্টারভিউয়েরই একটা ইস্যুতে সে ‘টু দ্য পয়েন্ট’ উত্তর দিলেও অন্য অংশে স্রেফ কথার কথা বলে দিতেই পারে। যদি রিজনেবল হন, ঠান্ডা মাথার হন- যৌক্তিক কথাটাকে আমলে নিবেন- আর ‘স্রেফ কথার কথা’ নিয়েও স্পষ্টভাষী হবেন। কিন্তু যদি অন্ধভক্ত বা অন্ধ হেটার হন, তাহলে………..

দেখুন টেস্টের ব্যাপার টা হলো দেশের খেলা আর সব থেকে অভিজাত সংস্করনের খেলা দেশের জন্য আপনাকে সেটা খেলতে হবে, হবেই কারন সেটা নিজের ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে এবং প্রতিটি টেস্ট জয়-ই দেশের জন্য মাইলফলক আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ভরাডুবির পরে তো অবশ্যই। কাজেই এখানে আপনি আমি সাকিবের ডেডিকেশান নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারি।
পরের হিসাব হলো সাকিব টি-২০ বিশ্বকাপ ভারতে তার প্রস্তুতি হিসাবে ভারতের মাটিতে আই পি এল খেলতে চান।
মজার বিষয় হলো গত আই পি এল-এ সাকিব প্রায় পুরোটা সময় সাইড বেঞ্চেই ছিলেন আর ফর্ম ও ছিল বাজে।
এরপর সে সালাউদ্দিনের কাছে গেছে পরামর্শ নিতে,নিয়েছেও। তবে সে ইনল্যান্ডে যায়নি বা কাউন্টি খেলেনি,তারপরও তার বিশ্বকাপের পারফর্মেন্স ছিল অনন্য মানে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকালের সেরা।
যাইহোক, এর মানে সাকিব ভারতের মাটিতে আইপিএল খেলবেন টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হতে তা হাস্যকর এবং খুবই চিপ লেভেলের রিজন।

এছাড়া সাকিবকে নিয়ে যে নোংরা রাজনীতি এখন হচ্ছে তার সুচনা অবশ্যই সাকিবের হাত ধরেই যেমন, সিম্পেথি পাবার জন্য আন্দোলন করা, যেটা সে করেছিল ব্যান হয়ে যাবার আগে,এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মাঠের ভিতরের আচরণ তো অবশ্যই।

যাহোক একক ব্যক্তির খেলা ক্রিকেট না, তবুও সাকিব আমাদের ম্যাজিক ম্যান। হয়তো এক সাকিবের সমস্যা আছে,সাকিবের বহুত দোষ, সাকিব বেয়াদব, সাকিব বেয়াড়া তারপরও সাকিব থাকুক বিশ্বকাপের রত্ণ হিসাবে,মাঠে ঘাড় ত্যাড় বীর হিসাবে,থাকুক অদম্য গর্জনে সাকিব থাকুক এটলাসের মতো আকাশসম মাথা নিয়ে পর্বত সম দায়িত্ব নিয়ে। পরিশেষে জ্বলে পুড়ে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয় এই মন্ত্রে বেঁচে থাক একজন

সময় সংবাদ বিডি /আশরাফুল ইসলাম সম্রাট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *