ইলিয়াছ হুসাইন
(তালা সাতক্ষীরা প্রতিনিধি):
তালার খেশরায় হাইব্রিড নেতাদের নানা অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। কিছুদিন আগেও বিএনপির অংগসংগঠন ছাত্রদলের কমিটিতে থাকা সেই সব পাতিনেতারা এখন অওয়ামীলীগের অংগ সংগঠনের বড় বড় পদে ঢুকে পড়ছে। অনুপ্রেবেশকারী নেতাদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে মাদকের স্বর্গরাজ্য । ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং বৃদ্ধি সহ এলাকার উঠতি বয়েসি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানাযায়, ছাত্রলীগ ও প্রজন্মলীগ নেতা পরিচয়দানকারী খেশরার হরিহরনগর গ্রামের মিলন (৩৩) বিগত ৩/৪ বছর আগেও ছাত্রদলের কমিটিতে থাকা অবস্থায় একই এলাকার আরোফিন নামের এক সেনা সদস্যের স্ত্রী (১ সন্তানের জননী) কে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। পরে পাইকগাছার মালত গ্রামে মোটরসাইকেল সহ কয়েক লক্ষ টাকার যৌতুকের বিনিময়ে আরেকটি বিয়ে করে । বিয়ের দিন খবর পেয়ে স্ত্রীর দাবীতে তালার শালিখা মোড়ে ঐ সেনা সদস্যের স্ত্রী নববধূ সহ মিলন’র পথ রোধ করে অনসনে বসেন। পরে বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।

মিলনের সেকেন্ড ইনকামন্ড সুমন (৩০) একই এলাকার জনৈক মুক্তিযোদ্ধার কন্যাকে অপহরনে ব্যর্থ হয়ে মিলনের নেতৃত্বে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করে। মিলনের আরেক সহযোগী আজমীর হোসেন (৩৫) জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাকে আপন চাচাত বোন ১০ বছরের শিশুকণ্যাকে হত্যা করে টপ টেইরর হয়ে ওঠে। এ ৩ টপটেইরর একাট্টা হয়ে খেশরা এলাকায় বর্তমানে অবাধে মাদকের ব্যবসা, ছিনতাই, চ্াঁদাবাজী সহ সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েক করেছে। মিলন বাহীনির অপর এক সদস্য মাদক ব্যবসায়ী আছাফুর (৪০) গত ১০ এপ্রিল খুলনা গোয়েন্দা পুলিশের ইয়াবা সহ আটক হয়।

এলাকাবাসী আরও জানায়, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি হরিহরনগর এলাকায় সম্প্রতি একটি মাইক্রোবাস ছিনতাই করে। মাইক্রোবাস মালিক পাইকগাছা উপজেলার বাকা গ্রামের সাগর স্বর্ণকার জানান, রাতে আশাশুনির গুনাকরকাটি থেকে বাকায় আসার পথে হরিহরনগরের মধ্যে মাইক্রোবাসটি আটকিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে নগদ টাকা, স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ছিনতাই করে ৪/৫ যুবক। গত মার্চ মাসে একই রাতে খেশরার শালিখা মোড়ের ১২ টি দোকানে দুধর্ষ চুরি সংগঠিত হয়। এ সময় চোরচক্র নগদ টাকা সহ ৫/৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নির্বিগ্নে পালিয়ে যায়। পুলিশ আজ পর্যন্ত এ ঘটনার কোন কুলকিনারা করতে পারেনি। এ বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নানা হুমকী সহ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে মিলন ও আজমির নিজেদের ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দেন। কিন্তু তিনি এখনও ছাত্রদলের কমিটিতে রয়েছেন(যা বর্তমানে বিলুপ্ত)।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের তালা উপজেলা শাখার সভাপতি বাবুল জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা, মাহিম হাসান মিলন ছাত্রদলের ছেলে জানলে আমি তাকে প্রজন্মলীগের কমিটিতে রাখতাম না। খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।

তালা উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি সাঈদুর রহমান সাইদ জানান, খেশরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মাহিম হাসান মিলনের বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা ভংগের অভিযোগ সহ নানা অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকায়, তার কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তালা উপজেলা শাখার সভাপতি শেখ সাদী জানান, মাহিম হাসান মিলন নামে খেশরায় ছাত্রলীগের কোন নেতা আছে বলে আমার জানা নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *