ইদানিং কালে ভাইরাল বা লোকমুখে সব থেকে বেশি প্রচালিত যে সেনটেন্স তা হলো “You can buy a bed, not sleep ” মানেটা হলো আপনি বিছানা ক্রয় করতে পারলেও ঘুম কিন্তু ক্রয় করতে পারবেন না।এটার অন্য একটা অর্থ হতে পারে আপনি টাকা দিয়ে সব কিছু কিনতে পারবেন না।

না, একদমই না পেপ গার্দিওয়ালা; গত চার বছরে বিশ হাজার কোটি টাকার থেকেও বেশি অর্থ পেপ ব্যায় করেছেন শুধু মাত্র ইলুসিভ এই উয়েফা চ্যামি্পয়নস লীগ জেতার জন্য,আর এরপর?
এরপর আসলে প্রথমবার ফাইনালে উঠা প্রতিটা(০৮) দলই হারল তার প্রতিপক্ষের কাছে।

গ্রাম্য প্রবাদ আছে বেশ মজার; প্রবাদ টা হলো আমি কানা আর ও তো চোখেই দেখে না। চেলসি নয় বছর আগে শেষ বার উচল জিতেছে। আর সিটি কোনদিনও ফাইনালে উঠে নি।

তবে ম্যাচ শুরুর আগে খেলোয়াড়,ফর্ম আর দলীয় শক্তিমত্তায় এগিয়ে ছিল রিয়াদ মহারেজ,আগুয়েরো আর ডি ব্রুইনরা।

চেলসিকে অনেকেই সমীকরনের বাইরে রেখেছিলেন অনেকভাবে,অনেক কারনে। এবার কার প্রিমীয়ার লীগের রেজাল্টও তাঁদের পক্ষে না এবং সাহস করে কেও তাঁদের পক্ষে বাজি ধরবে বলেও মনে হয় না।

এইসব সমীকরন মাথায় নিয়েই দুই দল মাঠে নামে।
আক্রমণ আর প্রতি আক্রমণে ভরা ম্যাচটা হয়েছে দুর্দান্ত। দুই দল সুযোগ পেলেও সবচেয়ে বেশি পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিল চেলসিই। কাই হ্যাভার্জ কাজে লাগিয়েছেন সুযোগটা, তার গোলেই থমাস তুখেল পেয়েছেন চেলসিকে নিয়ে স্বপ্নের চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি।

এমনিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে সব সময় দুই দল বেশি সতর্ক থাকে। তবে ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসি দুই দলই আজ শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক খেলতে থাকে ।আর ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ পেয়ে যান টিমো ভের্নার, কিন্তু ঠিক পজিশনে গিয়েও বেন চিলওয়েলের পাস থেকে শট নিতে পারেননি ঠিকমতো। এই চিলওয়েল সিটিকে প্রথমার্ধে সিটিকে ভুগিয়েছেন ভালোই। সেটার মাশুল অবশ্য পরে দিয়েছে সিটি।

ক্রিকেটের, Never mind another chance এর মতো ওই সুযোগের পরেই আরেকটা সহজ সুযোগ পেয়ে যায় চেলসি। এবারও বাঁদিক থেকে উড়ে আসা বলটা হেড করেছিলেন রিয়াল কে একহাতে হারানো কান্তে, তাও আবার দুই ডিফেন্ডার ডিয়াজ ও স্টোনসের মধ্য দিয়ে। কিন্তু হেডটা চলে যায় বারের খানিকটা ওপর দিয়ে। এর বেশ কিছুক্ষন পর আরেকটা দারুণ সুযোগ পেয়ে যায় ভের্নার। এবার বল নিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন, শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা সরাসরি চলে যায় এডারসনের হাতে।ফলাফল এবারও গোল বঞ্চিত টুখেলের চেলসি।

ওদিকে সিটিও গোলল পাবে এমন আভাস দিতে শুরু করে। এডারসনের লম্বা পাস থেকে স্টার্লিং বল পেয়ে ঢুকে পড়েছিলেন বক্সে, কিন্তু গোল করতে পারেননি। প্রথমার্ধে সিটির সব থেকে ভালো সুযোগটা পেয়েছিলেন সম্ভবত মৌসুম জুড়ে দারুন খেলা ফিল ফোডেন। বক্সের ভেতর বাঁ পায়ের শটটা জালেই জড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রায় কিন্তু শেষ মুহূর্তে আন্টনি রুডিগার ট্যাকল করলে সেটা আর জালে জড়ায়নি।

শেষ পর্যন্ত গোল নামক সোনার হরিণের দেখা হায় ২০০৯ সালের উচল জেতা চেলসি। বাঁদিকে চিলওয়েলের পাস থেকে মাউন্ট বল পেয়ে দারুন এক থ্রু বাড়ান হ্যাভার্টজকে।সামনে আসা এডারসনের গায়ে লেগে করা তার কিকটা আবার এসে পড়ে হ্যাভার্টজের কাছে, এবার সামনে ফাঁকা পোস্ট। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম গোলটা সবচেয়ে বড় মঞ্চে করতে ভুল করেননি এই জার্মান। ২০১৩ সালে ইলকে গুন্ডোয়ানের পর এই প্রথম কেউ চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম গোলটা ফাইনালেই করলেন। অন্যদিকে ২০০৮ সালে ওয়েস ব্রাউনের পর এই প্রথম কোনো ইংলিশ খেলোয়াড় চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে গোল করালেন।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন আগুনে গতিতে খেলতে থাকে সিটি। কিন্তু ৫৭ মিনিটে ভাগ্যদেবী আর যে তাদের পক্ষে নেই তার প্রমাণ মিলে, প্রথমে গোল এরপর মুখোমুখি হয় দুর্ভাগ্যের। রুডিগারের কড়া ট্যাকলে পড়ে যান ডি ব্রুইন। আঘাতটা এতই খারাপ ছিল, শেষ পর্যন্ত আর মাঠে থাকতে পারেন নি এই ক্রিয়েটিভ মিড বেলজিয়ান, চোখের জলে মাঠ ছাড়েন, তার জায়গায় নামেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। খানিক পর যেন প্রথমার্ধের ভুল সংশোধন করে ফার্নান্দিনহোকে নামান গার্দিওলা। সিটির খেলায় কিছুটা ধার বাড়ে, আজপিলিকুয়েতা ডান থেকে আসা ক্রসটা ক্লিয়ার করেন শেষ মুহূর্তে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগটা আসে ৭১ মিনিটে। কান্তের ধাক্কায় গুন্ডোয়ান পড়ে যাওয়ার পর বল যেয়ে যায় চেলসি। হ্যাভার্জের প্রতি-আক্রমণের পর এডারসনকে ওয়ান অন ওয়ানে পেয়েছিলেন ভের্নারের বদলি হিসেবে নামা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। কিন্তু বাইরে মেরে দেন, চেলসি হারায় আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।খেলা চলতে থাকে,আক্রমনে-প্রতি আক্রমনে।

If You hit me down,I Will get up again and again, I Will never say never. যেন এই গান থেকেই শেষ পর্যন্ত লড়ার মন্ত্র পেয়েছিল গার্দিওয়ালার শিষ্যরা, তবে পারেনি সিটি। আগুয়েরো সিটির হয়ে তার শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন, একবার তার চিপটা বিপদ হতে পারত, কিন্তু হতে দেননি চেলসি গোলরক্ষক চেলসি। শেষর দিকে ফোডেন দারুন সুযোগ পেয়েছিলেন, ফোডেন বল পেয়ে গিয়েছিলেন বক্সে, কিন্তু ক্রিশ্চিয়েনসেন শেষ মুহূর্তে ব্লক করে আটকে দিয়েছেন ফোডেনকে। চেলসির রক্ষণ ছিল মহাপ্রাচীর হয়ে । শেষ দিকে আর বিপদ হতে দেয়নি, মাহরেজের শেষ মুহূর্তের শট ছাড়া কাছাকাছিও যেতে পারেনি সিটি। এরপর?
So close, yet so far ; 2009 সালের পর একযুগ পরে চ্যাম্পিয়ন চেলসি, আর পরাজয়ের গ্লানিতে মাঠে বিদ্যমান সিটিজেনরা। চলুন ব্লুজ দের সাথে সেলিব্রেট করি। 2020-21 উচল জয়ী চেলসি কে অভিনন্দন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *