মাহী তানভীর, চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
প্রকৃতির নিশ্চুপ নিরবতা বলে দিচ্ছে শীত এসে গেছে। শীত আর পিঠা যেন এক সুতোয় গাঁথা। শীতের পিঠার অন্যতম উপাদান খেজুরের গুড়। খেজুরের রস থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় গুড় তৈরি করা হয়। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার গাছিরা রস সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতের প্রকোপ কিছুটা বাড়লে পুরোদমে শুরু হবে রস সংগ্রহ চারঘাট উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে রয়েছে অসংখ্য খেজুরের গাছ। উপজেলার গাছিরা খেজুরের গাছ কাটা-ঝোড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাড়তি আয়ের আশায় জমির আঁইলে আঁইলে খেজুর গাছ লাগিয়েছেন কৃষকরা। মেঠো পথের দুপাশে সারি সারি খেজুরের গাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে রসের মিষ্টি গন্ধ। গাছিরা কোমরে দড়ি বেঁধে গাছে উঠে রস সংগ্রহের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করছেন। উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে শীত মৌসুমে পুরোদমে চলে রস সংগ্রহ বিক্রি ও গুড় তৈরির কাজ। উপজেলার ফতেপুর গ্রামের গাছি ইনসান আলী রস সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানান, শীতের শুরুতেই খেজুর গাছ কেটে-ঝুড়ে রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এরপর দেয়া হয় চাচা। গাছে মাটির পাতিল ঝুলিয়ে নালি মারার মাধ্যমে শুরু হয় রস সংগ্রহ। তারপর খেজুরের রস জাল দিয়ে তৈরি হয় খেজুরের গুড় ও পাটালি। গাছ একবার ছাঁটলে তিন-চারদিন রস সংগ্রহ করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনদিন শুকাতে হয়। এইভাবে গাছের রস সুমিষ্ট হয়। রস সাধারণত ডিসেম্বর হতে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সংগ্রহ করতে হয়। রস সংগ্রহের পর হাঁড়ি পরিষ্কার করে রৌদ্রে শুকাতে হয়। অথবা আগুনে ছেকে নিতে হয়। এতে রসে গাঁজন বন্ধ হয়। খেজুরের গুড় বিক্রি করে উপজেলার গাছিরা প্রতি মৌসুমে মোটা অংকের টাকা আয় করেন। উপজেলাবাসী মনে করেন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাদের উৎপাদনকৃত গুড় বিশ্বদরবারে সমাদৃত হবে।

Leave a Reply