মাজহারুল ইসলাম বাদল.ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:

আসামি করা হয়েছে বিএনপি-জামায়াত ইসলামীর নেতা-কর্মীকে। মামলায় বিএনপির সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন, তাঁর ছেলে নাসিক কাউন্সিলর গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, আবদুল হাই রাজু, বিলুপ্ত মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্তু, মহানগর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবু, বিএনপি সমর্থক ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, জামাত নেতা বশিরুল্লাহসহ ১৩৬ জনের নাম উল্লেখ ও ৩৭০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

তবে মামলায় বাদ পড়েছেন জেলা হেফাজতে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এদিকে বিএনপি বলছে, হেফাজতের হরতালে তাদের সমর্থন ছিল না। সরকার তাদের ঘায়েল করার জন্য এই মামলাগুলোতে আসামি করেছে।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, হরতাল ডেকেছিল হেফাজতে ইসলাম। তাদের ডাকা হরতালে আমাদের সমর্থন ছিল না। অথচ মামলায় আমাদের আসামি করা রয়েছে। মূসত সরকার বিএনপিকেই ঘায়েল করতে চায়। রাজনীতির মাঠ থেকে বিএনপিকে সরাতেই এই মামলাগুলো করা হচ্ছে। সারা বাংলাদেশেই এমনটা চলছে। নির্বাচনের পূর্বে যেমন গায়েবি মামলা করা হয়েছিল তেমনি এই মামলাগুলোও গায়েবি।

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৩ সালের সময়েও হেফাজতের আন্দোলনের পর বিএনপির লোকজনকে আসামি করা হয়েছিল। হেফাজতকে বাদ দিয়ে মামলা আমাদের দেওয়া হয়।

প্রকৃত ঘটনা যারা ঘটালো তাদেরকে আড়ালে রাখা হয়। কেননা হেফাজতের সাথে আঁতাত করে তারা তাদের সুবিধা দিতে চায়। দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয় হেফাজত। এই মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

রোববার হেফাজতের সকাল-সন্ধ্যা হরতালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতার ঘটনায় ছয়টি মামলা হয়েছে। সোমবার (২৯ মার্চ) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচটি এবং র‌্যাব বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। প্রত্যেক মামলায় ২৫-৩০ জন এজাহারনামীয় আসামি এবং অজ্ঞাত আরও ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান। তিনি জানান, গত রাতে মামলাগুলো রুজু করা হয়েছে। র‌্যাব ও পুলিশের পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। অপর একটি মামলা সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশের উপর হামলা ও আহত করার অভিযোগে করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে র‌্যাব-পুলিশের কয়েকটি টিম নাশকতাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে। সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

রোববার হেফাজতের ডাকা হরতালে স্বাভাবিক ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও উপজেলা শহরগুলো। কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ছিল হরতাল সমর্থকদের দখলে। তারা এই মহাসড়কে রীতিমতো তান্ডব চালায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কে প্রায় ১৮টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। নির্বিচারে চলে ভাঙচুর।

দফায় দফায় বিজিবি-পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ-সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক। পুরো সময়জুড়ে সাংবাদিক উপর চড়াও ছিল পিকেটাররা। তারা অন্তত ১২ জন সাংবাদিককে মারধর ও দু’টি মিডিয়ার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। মহাসড়কটি ভোর থেকে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত পর্যন্ত ছিল হরতাল সমর্থকদের দখলে।

পুলিশের তথ্যমতে, এই সময়ের মধ্যে ১৮টি ট্রাক, বাস, কাভার্ডভ্যানে আগুন, নির্বিচারে যানবাহনে ভাঙচুর, সাংবাদিকদের মারধর করেছে হেফাজতের পিকেটাররা। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪০০০ রাউন্ড গুলি (রাবার, সিসা, চাইনিজ রাইফেল) ছুড়েছে পুলিশ। প্রায় এক থেকে দেড়শ কাঁদানে গ্যাসের শেলও নিক্ষেপ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *