নিজস্ব প্রতিনিধি:
পাবনার চাটমোহরে গ্রাম পুলিশে চাকুরী দেওয়ার নামে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে ২ নং নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান খোকনের বিরুদ্ধে।বুধবার(২৪ মার্চ)জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভুগী নিমাইচড়া ইউনিয়নের বহরমপুর গ্রামের মৃত আকুল সরদারের ছেলে মো:আলম সরদার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের বহরমপুর গ্রামের মৃত আকুল সরদারের ছেলে মো:আলম সরদার একজন দরিদ্র ও বেকার যুবক তার কোন কর্মসংস্থান না থাকায় নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হবে জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান ও তৎকালীন ইউপি সচিব শামসুল আরেফিন এর সাথে দেখা করে জানতে চায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ব্যাপারে। এ সময় চেয়ারম্যান ও সচিব আলমকে বলে ২,০০,০০০(দুই লক্ষ) টাকা হলে গ্রাম পুলিশে নিয়োগ পাওয়া যাবে আর এই টাকা ডিসি সাহেব ও ইউএনও সাহেবকে দিতে হবে। তখন সে তাদের কথা বিশ্বাস করে গরু বিক্রি করে ও ফসলের জমি বন্ধক রেখে ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চার ধাপে ১,৫০,০০০(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা চেয়ারম্যান এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান খোকনের কাছে প্রদান করেন। টাকা প্রদান করার পরে চেয়ারম্যান বলেন তোমার চাকুরী হয়ে গেছে এখন শুধু নিয়োগ পত্রটা আসবে তুমি কাজে যোগদান করো। তার কথা মত সে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজ কর্মে অংশ গ্রহন করেন এবং ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান তাকে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজে কর্মে নিয়োজিত রাখেন। এই কয়েক বছরে তাকে সাপ্তাহিক ৩০০ টাকা করে প্রদান করেন এবং বলেন নিয়োগ পত্র হাতে পেলে সমস্ত বেতন একসাথে হাতে পাবে। কিন্তু কয়েক বছর অতিবাহিত হলেও তাকে কোন নিয়োগ পত্র প্রদান করেনি। আলম এ বিষয় নিয়ে বার বার অনুরোধ করলেও চেয়ারম্যান তাকে বলেন আরোও ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা লাগবে ডিসি স্যার ও ইউএনও স্যারকে দিতে হবে তাহলে নিয়োগ পত্র ছাড়বে। তখন আলম টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে পূর্বের প্রদান কৃত ১,৫০,০০০(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা ফেরত চাইলে চেয়ারম্যান তার কাছে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। আলম একজন অসহায় দরিদ্র মানুষ সে চরম অর্থ সংকটে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। অভিযোগে আরোও উল্লেখ করেন, মির্জাপুর গ্রামের মো:কায়েম উদ্দিনের ছেলে মো:জুয়েল রানার কাছ থেকে গ্রাম পুলিশ পদে চাকুরীর নিয়োগ পত্র আটকে দিয়ে চেয়ারম্যান ইউপি সচিব শামসুল আরেফিনের সহায়তায় ১,৭৫,০০০(এক লক্ষ পচাত্তর হাজার) টাকা আদায় করেন।

এ বিষয়ে নিমাইচড়া ইউপি চেয়ারম্যান এ.এইচ.এম মো:কামরুজ্জামান খোকন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিন্নাবাড়ী গ্রামের গ্রাম পুলিশ আব্দুল গফুর অসুস্থ থাকার কারণে মাস্টার রুলে আলম সরদারকে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কিন্ত তার কাছ থেকে কোন টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *